ইস্ট্রোজেন হরমোন বেড়ে গেলে কি হয়

ইস্ট্রোজেন হরমোন বেড়ে গেলে কি হয়? লক্ষণ, মারাত্মক ঝুঁকি ও কমানোর উপায়

আমাদের শরীরের সুস্থতা নির্ভর করে হরমোনের ভারসাম্য বা ব্যালেন্সের ওপর। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে দুটি প্রধান হরমোন—ইস্ট্রোজেন (Estrogen) এবং প্রোজেস্টেরন (Progesterone) এর ভারসাম্য ঠিক থাকাটা জরুরি। ইস্ট্রোজেনকে বলা হয় “নারীত্বের হরমোন”, যা নারীর শারীরিক গঠন ও প্রজননতন্ত্রের জন্য অপরিহার্য।

কিন্তু সমস্যা হলো, আধুনিক জীবনযাত্রা, খাদ্যাভ্যাস এবং পরিবেশ দূষণের কারণে বর্তমানে নারীদের শরীরে (এমনকি পুরুষদের শরীরেও) এই ইস্ট্রোজেন হরমোনের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাচ্ছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় “ইস্ট্রোজেন ডমিন্যান্স” (Estrogen Dominance)

অনেক নারী চিকিৎসকের কাছে আসেন এই সমস্যা নিয়ে যে—“ডাক্তার, আমার ওজন কিছুতেই কমছে না, পিরিয়ডে প্রচুর রক্তপাত হয় এবং মেজাজ সবসময় খারাপ থাকে।” এগুলো ইস্ট্রোজেন বেড়ে যাওয়ার ক্লাসিক লক্ষণ।

আজকের ব্লগে আপনাদের জানাব—শরীরে ইস্ট্রোজেন বেড়ে গেলে আসলে কী ঘটে, কেন এটি ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায় এবং প্রাকৃতিকভাবে এই হরমোন নিয়ন্ত্রণে রাখার উপায় কী।

ইস্ট্রোজেন হরমোন কি এবং এবং কেন এটি বাড়ে?

ইস্ট্রোজেন মূলত নারীদের ডিম্বাশয় থেকে নিঃসৃত হয়। এটি কোষের বৃদ্ধি ঘটায়। বয়ঃসন্ধিকালে স্তন ও জরায়ুর বিকাশের জন্য এটি দরকার। কিন্তু শরীরে যখন এর মাত্রা প্রয়োজনের চেয়ে বেশি হয়ে যায়, তখন এটি কোষের অনিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধি ঘটাতে শুরু করে—যা টিউমার বা ক্যানসারের দিকে মোড় নিতে পারে।

ইস্ট্রোজেন ডমিন্যান্স দুইভাবে হতে পারে:
১. সরাসরি বৃদ্ধি: শরীর নিজেই অতিরিক্ত ইস্ট্রোজেন তৈরি করছে বা পরিবেশ থেকে গ্রহণ করছে।
২. আপেক্ষিক বৃদ্ধি: শরীরে ইস্ট্রোজেন হয়তো স্বাভাবিক আছে, কিন্তু এর “পার্টনার হরমোন” প্রোজেস্টেরন কমে গেছে। ফলে ইস্ট্রোজেনের প্রভাব বেড়ে গেছে।

ইস্ট্রোজেন হরমোন বেড়ে গেলে কি হয়?

শরীরে এই হরমোন বেড়ে গেলে তা “বিষের” মতো কাজ করতে পারে। লক্ষণগুলো অবহেলা করবেন না:

১. অস্বাভাবিক ওজন বৃদ্ধি (Weight Gain)

ইস্ট্রোজেন শরীরে চর্বি জমিয়ে রাখতে পছন্দ করে।

  • লক্ষণ: বিশেষ করে হিপস (Hips), উরু (Thighs) এবং কোমরের চারপাশে চর্বি জমা। ডায়েট বা ব্যায়াম করেও এই চর্বি কমানো খুব কঠিন হয়ে পড়ে।

২. মাসিকের সমস্যা ও অতিরিক্ত রক্তপাত

ইস্ট্রোজেন জরায়ুর ভেতরের আস্তরণকে (Endometrium) পুরু করে।

  • লক্ষণ: হরমোন বেশি থাকলে এই আস্তরণ অতিরিক্ত পুরু হয়ে যায়। ফলে মাসিকের সময় প্রচুর রক্তপাত (Heavy Bleeding) হয়, চাকা চাকা রক্ত যায় এবং মাসিক অনেক দিন ধরে চলে। পিরিয়ড খুব ব্যথাযুক্ত হতে পারে।

৩. স্তনে ব্যথা ও লাম্প (Fibrocystic Breasts)

  • লক্ষণ: স্তন খুব ভারী ও ব্যথাযুক্ত মনে হওয়া। অনেক সময় স্তনে ছোট ছোট চাকা বা লাম্প (Lumps) অনুভব করা। এটি ইস্ট্রোজেন বাড়ার অন্যতম প্রধান লক্ষণ।

৪. জরায়ুতে টিউমার বা ফাইব্রয়েডস (Fibroids)

যেহেতু ইস্ট্রোজেন কোষের বৃদ্ধি ঘটায়, তাই এর প্রভাবে জরায়ুতে টিউমার বা ফাইব্রয়েডস তৈরি হতে পারে। এটি ক্যানসার নয়, তবে এটি প্রচুর রক্তপাত ও ব্যথার কারণ হয়।

৫. পিএমএস (PMS) বা মুড সুইং

  • লক্ষণ: মাসিকের আগে তীব্র পেট ব্যথা, মাথাব্যথা এবং মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া। অকারণে কান্না পাওয়া, ডিপ্রেশন বা এনজাইটি (Anxiety) কাজ করা।

৬. ক্লান্তি ও ঘুমের সমস্যা

ইস্ট্রোজেন বাড়লে থাইরয়েড হরমোন ঠিকমতো কাজ করতে পারে না। ফলে মেটাবলিজম কমে যায় এবং সারাদিন ক্লান্তি লাগে। রাতে ঠিকমতো ঘুম না হওয়া বা ইনসোমনিয়া হতে পারে।

৭. চুল পড়া (Hair Loss)

হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হলে চুল পাতলা হয়ে যেতে পারে।

৮. হাত-পা ঠান্ডা থাকা

থাইরয়েড ফাংশন কমে যাওয়ার কারণে হাত-পা সবসময় ঠান্ডা থাকতে পারে।

৯. স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া

অনেকে একে “Brain Fog” বলেন। অর্থাৎ কোনো কিছুতে মনোযোগ দিতে না পারা বা ভুলে যাওয়া।

১০. পিত্তথলির সমস্যা (Gallbladder Issues)

ইস্ট্রোজেন পিত্তরসকে ঘন করে দেয়, যার ফলে পিত্তথলিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

ছেলেদের ইস্ট্রোজেন হরমোন বেড়ে গেলে কি হয়?

অনেকে ভাবেন ইস্ট্রোজেন শুধু নারীদের হরমোন। এটি ভুল। পুরুষদের শরীরেও সামান্য ইস্ট্রোজেন থাকে। কিন্তু যদি পুরুষদের শরীরে এটি বেড়ে যায়, তবে তা লজ্জাজনক এবং ক্ষতিকর হতে পারে।

১. শারীরিক পরিবর্তন

  • গাইনোকোমাস্টিয়া (Gynecomastia): এটি সবচেয়ে স্পষ্ট লক্ষণ। পুরুষদের স্তনের টিস্যু বা আকার অস্বাভাবিকভাবে বড় হয়ে যায় এবং স্তনবৃন্তের আশপাশে ব্যথা অনুভূত হতে পারে।

  • ওজন বৃদ্ধি: বিশেষ করে পেটের ও কোমরের দিকে মেদ জমতে শুরু করে। পেশীর ভর (Muscle mass) কমে যায় এবং শরীর থলথলে হয়ে যেতে পারে।

  • ক্লান্তি: সারাক্ষণ ক্লান্তি বোধ করা বা শরীরে শক্তি না পাওয়ার সমস্যা হতে পারে।

২. যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যগত সমস্যা

  • যৌন ইচ্ছা কমে যাওয়া: লিবিডো বা যৌন আকাঙ্ক্ষা মারাত্মকভাবে কমে যেতে পারে।

  • ইরেকটাইল ডিসফাংশন: লিঙ্গ উত্থানে সমস্যা বা দীর্ঘস্থায়ী করতে অক্ষমতা দেখা দিতে পারে।

  • বন্ধ্যাত্ব (Infertility): ইস্ট্রোজেন বেড়ে গেলে শুক্রাণুর উৎপাদন কমে যায় এবং শুক্রাণুর মান নষ্ট হতে পারে, যা সন্তান জন্মদানে বাধার সৃষ্টি করে।

  • অণ্ডকোষ ছোট হয়ে যাওয়া: হরমোনের ভারসাম্যহীনতার কারণে অণ্ডকোষের আকার ছোট হয়ে যেতে পারে।

৩. মানসিক সমস্যা

  • বিষণ্নতা ও মেজাজের পরিবর্তন: হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার কারণে অকারণে মন খারাপ থাকা, খিটখিটে মেজাজ বা ডিপ্রেশন দেখা দিতে পারে।

৪. অন্যান্য ঝুঁকি

দীর্ঘদিন ইস্ট্রোজেন বেশি থাকলে এটি টাইপ-২ ডায়াবেটিস, রক্ত জমাট বাঁধা (Blood clots), এবং প্রস্টেটের সমস্যার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে।

কেন বাড়ে?

সাধারণত অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা (শরিরের ফ্যাট সেল টেস্টোস্টেরন ভেঙে ইস্ট্রোজেনে রূপান্তর করে), লিভারের রোগ, অতিরিক্ত মদ্যপান, বা নির্দিষ্ট কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে ছেলেদের ইস্ট্রোজেন বেড়ে যেতে পারে।

কেন বাড়ে ইস্ট্রোজেন? (গোপন কারণগুলো)

শরীরে এই হরমোন কেন বাড়ছে? এর পেছনে আমাদের আধুনিক জীবনযাত্রা দায়ী।

১. জেনোইস্ট্রোজেন (Xenoestrogens) – পরিবেশের বিষ

এটি হলো সবচেয়ে বড় কারণ। আমাদের পরিবেশে এমন কিছু রাসায়নিক আছে যা শরীরে ঢুকে হরমোনের মতো আচরণ করে।

  • প্লাস্টিক: প্লাস্টিকের বোতল বা বক্সে BPA থাকে। প্লাস্টিকের পাত্রে গরম খাবার খেলে এটি শরীরে ঢোকে এবং ইস্ট্রোজেন বাড়িয়ে দেয়।
  • প্রসাধনী: শ্যাম্পু, লোশন বা মেকআপে থাকা প্যারাবেন (Parabens) ও থ্যালেটস।
  • কীটনাশক: শাকসবজিতে দেওয়া কীটনাশক।

২. লিভারের সমস্যা (Liver Issues)

আমাদের শরীর থেকে অতিরিক্ত ইস্ট্রোজেন বের করে দেওয়ার দায়িত্ব লিভারের। লিভার যদি ফ্যাটি হয় বা ঠিকমতো কাজ না করে, তবে অতিরিক্ত হরমোন শরীরে জমে যায়।

৩. কোষ্ঠকাঠিন্য ও অন্ত্রের স্বাস্থ্য

অতিরিক্ত ইস্ট্রোজেন পায়খানার সাথে বেরিয়ে যায়। কিন্তু যদি আপনার কোষ্ঠকাঠিন্য থাকে, তবে সেই হরমোন আবার অন্ত্র থেকে শোষিত হয়ে রক্তে ফিরে আসে।

৪. স্থূলতা (Obesity)

শরীরের ফ্যাট কোষ বা চর্বি নিজেই ইস্ট্রোজেন তৈরি করতে পারে। আপনার ওজন যত বেশি হবে, শরীরে ইস্ট্রোজেন তত বাড়বে। এটি একটি দুষ্টচক্র।

৫. স্ট্রেস বা মানসিক চাপ

টেনশন করলে প্রোজেস্টেরন কমে যায়। আর প্রোজেস্টেরন কমলে ইস্ট্রোজেনের প্রভাব বেড়ে যায় (Estrogen Dominance)।

ইস্ট্রোজেন বাড়লে কী কী মারাত্মক ঝুঁকি থাকে?

এটি কেবল মোটা হওয়া বা মুড সুইংয়ের বিষয় নয়। দীর্ঘমেয়াদী ইস্ট্রোজেন ডমিন্যান্স মারাত্মক রোগের কারণ হতে পারে:

  1. ব্রেস্ট ক্যানসার (Breast Cancer): অতিরিক্ত ইস্ট্রোজেন ব্রেস্ট ক্যানসারের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
  2. জরায়ু ক্যানসার (Endometrial Cancer): জরায়ুর আস্তরণ অতিরিক্ত পুরু হয়ে ক্যানসারে রূপ নিতে পারে।
  3. ওভারিয়ান ক্যানসার।
  4. রক্ত জমাট বাঁধা (Blood Clots): এটি স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ায়।
  5. অটোইমিউন রোগ: থাইরয়েড সমস্যা বা হাশিমোটো ডিজিজ।

রোগ নির্ণয়: নিশ্চিত হবেন কীভাবে?

লক্ষণ দেখে সন্দেহ হলে ডাক্তাররা হরমোন প্রোফাইল টেস্ট করতে দেন।

  • রক্ত পরীক্ষা (Serum Estradiol): এটি ইস্ট্রোজেনের মাত্রা পরিমাপ করে।
  • Serum Estradiol (E2): এটি রক্তে ইস্ট্রোজেনের সঠিক মাত্রা পরিমাপ করে।
  • Progesterone Test: শরীরে ইস্ট্রোজেনের সাথে প্রোজেস্টেরনের অনুপাত ঠিক আছে কি না, তা দেখার জন্য এই টেস্ট করা হয়।
  • LH & FSH: ডিম্বাশয়ের কার্যকারিতা এবং প্রজনন ক্ষমতা দেখার জন্য।
  • Thyroid Test (TSH): থাইরয়েড হরমোনের অসামঞ্জস্যতা আছে কি না তা যাচাই করতে।
  • Liver Function Test: লিভার ঠিকমতো কাজ করছে কি না তা দেখতে (কারণ লিভার হরমোন মেটাবলিজমে সাহায্য করে)।
  • প্রোজেস্টেরন টেস্ট: ইস্ট্রোজেনের সাথে প্রোজেস্টেরনের অনুপাত দেখার জন্য এটি করা হয়।

ইস্ট্রোজেন কমানোর উপায় ও চিকিৎসা (Treatment & Solutions)

সুখবর হলো, জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এনে এবং শরীরকে ডিটক্স করে আপনি এই হরমোন নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেন।

১. খাদ্যাভ্যাস: ইস্ট্রোজেন ব্লকার খাবার

কিছু খাবার আছে যা শরীর থেকে অতিরিক্ত ইস্ট্রোজেন বের করে দিতে সাহায্য করে।

  • ক্রুসিফেরাস সবজি (Cruciferous Vegetables): ব্রোকলি, ফুলকপি, বাঁধাকপি এবং ওলকপি। এগুলোতে DIM (Diindolylmethane) নামক উপাদান থাকে যা লিভারকে সাহায্য করে ক্ষতিকর ইস্ট্রোজেন বের করে দিতে। প্রতিদিন এই সবজিগুলো খাওয়ার চেষ্টা করুন।
  • ফাইবার বা আঁশ: ইসুবগুল, শাকসবজি, ফলমূল এবং লাল চাল। ফাইবার অন্ত্র থেকে অতিরিক্ত হরমোন শুষে নিয়ে মলের সাথে বের করে দেয়।
  • প্রোবায়োটিক: দই বা টক দই অন্ত্রের ভালো ব্যাকটেরিয়া বাড়ায়, যা হরমোন মেটাবলিজমে সাহায্য করে।
  • গ্রিন টি: এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হরমোন ব্যালেন্স করে।

২. যা বর্জন করতে হবে

  • প্লাস্টিক: কাঁচ বা স্টিলের বোতল ব্যবহার করুন। প্লাস্টিকের বক্সে খাবার গরম করবেন না।
  • সয়া: সয়াবিন বা সয়া মিল্ক অতিরিক্ত খাবেন না, কারণ এতে ফাইটোইস্ট্রোজেন থাকে যা হরমোন আরও বাড়িয়ে দিতে পারে (যদি আপনার ইতিমধ্যে বেশি থাকে)।
  • চিনি ও অ্যালকোহল: এগুলো লিভারের কাজ কমিয়ে দেয়। লিভার সুস্থ না থাকলে হরমোন বের হবে না।

৩. জীবনযাত্রার পরিবর্তন

  • ওজন কমান: চর্বি কমালে হরমোন তৈরির কারখানা বন্ধ হবে।
  • ব্যায়াম: ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে টক্সিন বের হয়।
  • লিভার ডিটক্স: লেবুর পানি, হলুদ বা আদা খেয়ে লিভার সুস্থ রাখুন।

৪. মেডিকেল চিকিৎসা

যদি ক্যানসারের ঝুঁকি থাকে বা ফাইব্রয়েডস খুব বড় হয়, তবে ডাক্তাররা ঔষধ দেন:

  • অ্যারোমাটেজ ইনহিবিটরস (Aromatase Inhibitors): এটি শরীরে ইস্ট্রোজেন তৈরি বন্ধ করে।
  • প্রোজেস্টেরন থেরাপি: হরমোনের ভারসাম্য আনার জন্য প্রোজেস্টেরন পিল দেওয়া হয়।

ইস্ট্রোজেন হরমোন নিয়ে সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

পিল (Birth Control Pill) খেলে কি ইস্ট্রোজেন বাড়ে?

উত্তর: অধিকাংশ জন্মবিরতিকরণ পিলে সিন্থেটিক ইস্ট্রোজেন থাকে। দীর্ঘদিন পিল খেলে শরীরে ইস্ট্রোজেন ডমিন্যান্স হতে পারে।

মেনোপজের পর কি ইস্ট্রোজেন বাড়ে?

উত্তর: সাধারণত মেনোপজের পর ইস্ট্রোজেন কমে যায়। কিন্তু যদি কোনো নারী খুব বেশি স্থূল হন, তবে তার ফ্যাট টিস্যু থেকে ইস্ট্রোজেন তৈরি হতে পারে এবং ভারসাম্যহীনতা দেখা দিতে পারে।

ইস্ট্রোজেন বাড়লে কি বাচ্চা নিতে সমস্যা হয়?

উত্তর: হ্যাঁ। ইস্ট্রোজেন ডমিন্যান্স থাকলে পিসিওএস (PCOS) বা ফাইব্রয়েডস হতে পারে, যা গর্ভধারণে বাধা সৃষ্টি করে।

কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন?

নিচের যেকোনো লক্ষণ থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন—

  • মাসিক বন্ধ বা অতিরিক্ত রক্তপাত

  • সন্তান না হওয়ার সমস্যা

  • স্তনে অস্বাভাবিক গুটি

  • অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধি

  • তীব্র পেটব্যথা

  • অনিয়মিত হরমোনাল উপসর্গ

উপসংহার:

 ইস্ট্রোজেন হরমোন নারীর সৌন্দর্য ও নারীত্বের প্রতীক, কিন্তু এর আধিক্য শরীরের জন্য নীরব ঘাতক হতে পারে। অস্বাভাবিক ওজন বৃদ্ধি, অতিরিক্ত রক্তপাত বা স্তনে ব্যথাকে কখনোই “স্বাভাবিক” বলে মেনে নেবেন না।

আজই আপনার রান্নাঘর থেকে প্লাস্টিক বিদায় করুন, ব্রোকলি ও বাঁধাকপি খাওয়ার অভ্যাস করুন এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে আনুন। মনে রাখবেন, হরমোনের ভারসাম্যই হলো সুস্থ জীবনের মূল চাবিকাঠি।

লক্ষণগুলো তীব্র হলে দেরি না করে একজন গাইনোকোলজিস্ট বা এন্ডোক্রাইনোলজিস্টের পরামর্শ নিন। সুস্থ থাকুন, সচেতন থাকুন।

(বিঃদ্রঃ এই ব্লগটি সাধারণ স্বাস্থ্য সচেতনতা ও তথ্যের জন্য লেখা হয়েছে। আপনার যদি ক্যানসারের ইতিহাস বা গুরুতর শারীরিক সমস্যা থাকে, তবে অবশ্যই একজন রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।)

Scroll to Top