ডান ব্রেস্ট ব্যথার কারণ

ডান ব্রেস্ট ব্যথার কারণ: ক্যান্সার, লিভার নাকি সাধারণ সমস্যা?

শরীরের যেকোনো ব্যথা অস্বস্তিকর, কিন্তু ব্যথাটা যদি হয় স্তনে বা ব্রেস্টে, তবে একজন নারীর মনে সবার আগে যে শব্দটি আসে তা হলো “ক্যান্সার”। বিশেষ করে ডান স্তনে ব্যথা হলে নারীরা একটু দোটানায় পড়ে যান। কারণ বাম দিকে ব্যথা হলে হার্টের ভয় থাকে, কিন্তু ডান দিকে তো হার্ট নেই, তাহলে ব্যথা কেন?

অনেক নারী চিকিৎসকের কাছে এসে বলেন, “ডাক্তার, আমার ডান ব্রেস্টে চিনচিনে ব্যথা করছে, মাঝে মাঝে পিঠের দিকে বা ডান হাতেও ছড়িয়ে পড়ছে। আমার কি টিউমার হয়েছে?”

ডান স্তনে ব্যথার অধিকাংশ কারণই (প্রায় ৯০%) ক্যান্সার নয়। হরমোনের পরিবর্তন, পেশীর টান, এমনকি পিত্তথলির (Gallbladder) সমস্যার কারণেও ডান স্তনে ব্যথা হতে পারে।

আজকের এই বিস্তারিত ব্লগে আমরা জানব—ডান ব্রেস্টে ব্যথার আসল কারণগুলো কী, কেন ডান পাশেই বেশি ব্যথা হয় এবং ঘরোয়া উপায়ে এর সমাধান কী।

ব্রেস্ট পেইন বা মাস্টালজিয়া (Mastalgia) কি?

চিকিৎসাবিজ্ঞানে স্তনের ব্যথাকে ‘মাস্টালজিয়া’ (Mastalgia) বলা হয়। এই ব্যথা দুই ধরণের হতে পারে:
১. সাইক্লিক্যাল (Cyclical): যা মাসিক চক্রের সাথে আসে এবং যায়।
২. নন-সাইক্লিক্যাল (Non-cyclical): যা মাসিকের সাথে সম্পর্কিত নয় এবং যেকোনো সময় হতে পারে।

ডান স্তনে ব্যথা সাধারণত এই দুই ক্যাটাগরির যেকোনো একটির কারণেই হতে পারে। তবে ডান দিকের ব্যথার কিছু বিশেষ কারণ আছে যা বাম দিকের চেয়ে আলাদা।

ডান ব্রেস্ট ব্যথার কারণ কি?

বাম স্তনে ব্যথা হলে আমরা হার্ট অ্যাটাকের ভয়ে আঁতকে উঠি। কিন্তু ডান স্তনে ব্যথা হলে অনেকেই কারণ খুঁজে পান না। ডান স্তনে ব্যথা হওয়ার পেছনে হরমোন, হাড়, পেশী, স্তন টিস্যু এবং পেটের ভেতরের কিছু অঙ্গের (যেমন পিত্তথলি) সমস্যা দায়ী হতে পারে।

চলুন বিস্তারিত কারণগুলো জেনে নিই:

১. হরমোনের পরিবর্তন (সবচেয়ে সাধারণ কারণ)

নারীদের স্তন ব্যথার সবচেয়ে বড় কারণ হলো মাসিক চক্রের হরমোন। একে ‘সাইক্লিক্যাল পেইন’ বলা হয়।

  • কেন হয়: মাসিকের ৫-৭ দিন আগে, বয়ঃসন্ধিতে বা গর্ভাবস্থায় ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন হরমোন বেড়ে যায়। ফলে স্তন টিস্যুতে পানি জমে (Water Retention) এবং স্তন ফুলে বা ভারী হয়ে যায়।
  • লক্ষণ: সাধারণত দুই স্তনেই ব্যথা হয়, তবে অনেকের ক্ষেত্রে ডান স্তনে বেশি ব্যথা অনুভূত হতে পারে। মাসিক শুরু হলে এই ব্যথা কমে যায়। ২০ থেকে ৪০ বছর বয়সী নারীদের এটি বেশি হয়।

২. ডান হাতের অতিরিক্ত ব্যবহার (Muscle Strain)

পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষ ডানহাতি (Right-handed)। আমরা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সব ভারী কাজ ডান হাত দিয়েই করি।

  • পেক্টোরাল মাসল স্ট্রেইন: স্তন সরাসরি বুকের পেশীর (Pectoral Muscle) ওপরে অবস্থিত। আপনি যদি ডান হাত দিয়ে ভারী ব্যাগ বহন করেন, কাপড় কাচেন, ঘর মোছেন বা জিমে ব্যায়াম করেন—তবে আপনার বুকের ডানপাশের পেশীতে টান পড়তে পারে।
  • অনুভূতি: এই পেশীর ব্যথাটি স্তনের ঠিক নিচে বা গভীরে অনুভূত হয়। নারীরা মনে করেন ব্যথাটি স্তনের ভেতরে হচ্ছে, কিন্তু আসলে এটি পেশীর ব্যথা।

৩. পিত্তথলির পাথর বা সমস্যা (Gallbladder Issues)

এটি ডান স্তনে ব্যথার একটি বিশেষ কারণ, যা বাম স্তনে হয় না।

  • রেফার্ড পেইন: পিত্তথলি বা গলব্লাডার আমাদের পেটের ডান দিকে, ঠিক পাঁজরের নিচে থাকে। পিত্তথলিতে পাথর থাকলে বা প্রদাহ হলে সেই ব্যথা ওপরের দিকে উঠে ডান স্তনের নিচে বা ডান কাঁধে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
  • লক্ষণ: চর্বিযুক্ত বা ভাজাপোড়া খাবার খাওয়ার পর যদি ডান দিকের বুকে বা পাঁজরে ব্যথা বাড়ে, তবে এটি ব্রেস্টের সমস্যা নয়, পিত্তথলির সমস্যা হতে পারে।

৪. ভুল মাপের ব্রা ব্যবহারের অভ্যাস

ভুল সাইজের অন্তর্বাস পরা ব্রেস্ট পেইনের অন্যতম প্রধান কারণ।

  • সাপোর্টের অভাব: খুব ঢিলা ব্রা পরলে হাঁটাচলা বা কাজের সময় স্তন টিস্যু ও লিগামেন্টে (Cooper’s Ligament) টান পড়ে ব্যথা হতে পারে।
  • আন্ডারওয়্যার ব্রা: নিচে তার বা মেটাল দেওয়া ব্রা দীর্ঘক্ষণ পরলে তা বুকের পাঁজরে খোঁচা দেয়। ডান হাত বেশি নড়াচড়া করায় ডান দিকে ঘর্ষণ বেশি হয়।
  • ভুল অভ্যাস: অনেক নারী সারাদিন এমনকি রাতে ঘুমানোর সময়ও ব্রা পরে থাকেন। এতে ব্রেস্ট টিস্যুতে চাপ পড়ে এবং ব্যথা হতে পারে।

৫. ফাইব্রোসিস্টিক পরিবর্তন সিস্ট (Fibrocystic Changes & Cysts)

এটি মেয়েদের সবচেয়ে সাধারণ ব্রেস্ট ব্যথার কারণ। এটি ক্ষতিকর নয়।

  • সিস্ট: ব্রেস্টের ভেতরে পানিভর্তি ছোট থলি তৈরি হলে তাকে সিস্ট বলে।
  • লক্ষণ: ডান বা বাম ব্রেস্টে ছোট গুটি বা চাকা অনুভূত হয়। মাসিকের আগে এগুলো বড় হয় ও ব্যথা করে। মাসিক শেষে আবার মিলিয়ে যায়।

৬. ফাইব্রোএডেনোমা (Fibroadenoma)

যুবতী মেয়েদের (১৫-৩০ বছর) খুবই সাধারণ একটি নন-ক্যান্সারাস (বিনাইন) টিউমার।

  • লক্ষণ: স্তনের ভেতরে রাবারের মতো শক্ত চাকা যা ধরলে নড়াচড়া করে (Breast Mouse)। সাধারণত এতে ব্যথা থাকে না, তবে আকার বড় হলে ব্যথা হতে পারে।

৭. স্তন্যদানজনিত সমস্যা (Breastfeeding Problems)

যে মায়েরা শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ান, তাদের ডান ব্রেস্টে ব্যথা হতে পারে—

  • দুধ জমে গেলে (Engorgement)।
  • দুধের নালী ব্লক হলে (Blocked duct)।
  • মাস্টাইটিস বা ইনফেকশন: এতে ব্রেস্ট লাল হয়ে যায়, ফুলে ওঠে, গরম অনুভূতি হয় এবং সাথে জ্বর আসতে পারে।

৮. কস্টোকন্ড্রাইটিস (Costochondritis)

বুকের হাড় (Sternum) ও পাঁজরের সংযোগস্থলে ইনফ্লামেশন হলে ডান ব্রেস্টের আশেপাশে তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়। গভীর শ্বাস নিলে বা শরীর মোড়ালে এই ব্যথা বাড়ে।

৯. আঘাত বা ট্রমা (Trauma & Fat Necrosis)

হঠাৎ ধাক্কা, পড়ে যাওয়া, বাচ্চার হেডবাট (বাচ্চা কোলে নেওয়ার সময় বুকে আঘাত) বা সিটবেল্টের চাপে ডান স্তনে আঘাত লাগতে পারে।

  • ফ্যাট নেক্রোসিস: আঘাতের ফলে ব্রেস্টের চর্বি টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে নরম টিউমারের মতো অংশে পরিণত হয়, যা ব্যথা তৈরি করে।

১০. ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া স্ট্রেস 

  • ঔষধ: জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল, হরমোন থেরাপি, এন্টিডিপ্রেসেন্ট বা কিছু প্রেসারের ওষুধ ব্রেস্ট পেইন বাড়াতে পারে।
  • মানসিক চাপ: উদ্বেগ বা স্ট্রেস হরমোনে প্রভাব ফেলে, ফলে ডান ব্রেস্টে ব্যথা অনুভূত হতে পারে।

কখন বুঝবেন এটি ক্যান্সার? (সতর্কতা)

যদিও ব্রেস্ট ব্যথা একা ক্যানসারের প্রধান লক্ষণ নয়, তবুও নিচের লক্ষণগুলো থাকলে দ্রুত ডাক্তার দেখাতে হবে:

  • ডান ব্রেস্টে শক্ত অচল গুটি।

  • নিপল থেকে রক্ত বা তরল বের হওয়া।

  • ব্রেস্টের আকৃতি পরিবর্তন বা ত্বক কমলালেবুর খোসার মতো হয়ে যাওয়া।

  • নিপল ভেতরের দিকে ঢুকে যাওয়া।

ব্রেস্ট ফিডিং ও সংক্রমণজনিত কারণ:

যারা বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়াচ্ছেন, তাদের ক্ষেত্রে ব্যথার ভিন্ন কারণ থাকতে পারে:

  • ম্যাসটাইটিস (Mastitis): স্তন টিস্যুর সংক্রমণ। এতে স্তন গরম হয়ে যায়, লাল হয়, তীব্র ব্যথা হয় এবং জ্বর আসে। সাধারণত এটি এক পাশের স্তনেই হয়।
  • দুধ জমে যাওয়া (Engorgement): ডান স্তনে অতিরিক্ত দুধ জমে গেলে বা বাচ্চা ঠিকমতো না টানলে ব্যথা হতে পারে।

ক্যান্সার কি ব্যথার কারণ হতে পারে?

এটি নারীদের সবচেয়ে বড় ভয়। “ব্যথা করছে মানেই কি ক্যান্সার?”
উত্তর হলো: না।

  • ব্রেস্ট ক্যানসারের প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণত কোনো ব্যথা থাকে না। ক্যানসারের চাকা বা টিউমারগুলো ব্যথাহীন এবং খুব শক্ত হয়।
  • তবে, ইনফ্ল্যামেটরি ব্রেস্ট ক্যান্সার (Inflammatory Breast Cancer) নামে এক ধরণের বিরল ক্যান্সার আছে, যাতে স্তন লাল হয়ে যায়, ফুলে যায়, কমলার খোসার মতো খসখসে হয় এবং ব্যথা হয়।
  • যদি ব্যথার সাথে স্তনের চামড়া কুঁচকে যায়, নিপল ভেতরে ঢুকে যায় বা রক্ত বের হয়—তবে সেটি চিন্তার বিষয়। শুধু ব্যথা সাধারণত ক্যানসারের লক্ষণ নয়।

ডান ব্রেস্ট ব্যথা নির্ণয়ের উপায় (Diagnosis)

ডাক্তার সাধারণত নিম্নলিখিত পরীক্ষা করেনঃ

  1. ব্রেস্ট ফিজিকাল এক্সাম

  2. আল্ট্রাসাউন্ড

  3. ম্যামোগ্রাফি

  4. হরমোন পরীক্ষা

  5. সিস্ট বা টিউমারের ক্ষেত্রে বায়োপসি

সমস্যার ধরন অনুযায়ী চিকিৎসা শুরু হয়।

ডান ব্রেস্টের ব্যথা কমানোর ঘরোয়া প্রতিকার ও সমাধান

ডান ব্রেস্টের ব্যথা কমানোর জন্য আপনি ঘরে বসেই কিছু ব্যবস্থা নিতে পারেন।

১. সঠিক ব্রা নির্বাচন (Proper Support)

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলো সঠিক মাপের এবং আরামদায়ক ব্রা পরা।

  • স্পোর্টস ব্রা ব্যবহার করতে পারেন, যা স্তনকে নড়াচড়া থেকে রক্ষা করে।
  • রাতে ঘুমানোর সময় ব্রা খুলে ঘুমান বা খুব ঢিলা সুতি ব্রা পরুন।
  • আন্ডারওয়্যার (লোহার তারযুক্ত) ব্রা এড়িয়ে চলুন।

২. গরম বা ঠান্ডা সেঁক (Hot/Cold Compress)

ব্যথার ধরণ অনুযায়ী সেঁক দিন।

  • ফোলা ভাব বা আঘাত থাকলে: বরফ বা আইস প্যাক দিয়ে ১০ মিনিট সেঁক দিন।
  • পেশীর টান বা মাসিকের ব্যথা: গরম পানির ব্যাগ বা তোয়ালে গরম করে সেঁক দিলে আরাম পাওয়া যায়। গোসলের সময় হালকা গরম পানি দিয়ে ব্রেস্ট ম্যাসাজ করতে পারেন।

৩. খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন

  • ক্যাফেইন কমান: চা, কফি, চকোলেট এবং কোকাকোলা জাতীয় পানীয়তে ‘মিথাইলজ্যানথিন’ থাকে, যা স্তন ব্যথার উদ্রেক করতে পারে। এগুলো খাওয়া কমিয়ে দিলে ব্যথা কমে।
  • ফ্যাট কমান: চর্বিযুক্ত খাবার কমালে শরীরে ইস্ট্রোজেন নিয়ন্ত্রণে থাকে।
  • লবণ কম খান: মাসিকের আগে লবণ বেশি খেলে শরীরে পানি জমে স্তন ভারী হয়ে যায়।

৪. প্রাকৃতিক সাপ্লিমেন্ট

  • ইভিনিং প্রিমরোজ অয়েল (Evening Primrose Oil): এটি ব্রেস্ট পেইন বা সাইক্লিক্যাল ম্যাস্টালজিয়া কমাতে ডাক্তাররা প্রায়ই পরামর্শ দেন। এতে গামা-লিনোলেনিক এসিড (GLA) থাকে যা হরমোন ব্যালেন্স করে।
  • ভিটামিন ই: এটি স্তনের সিস্ট বা ফাইব্রোসিস্টিক ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।

৫. রিলাক্সেশন ও ম্যাসাজ

ক্যাস্টর অয়েল বা অলিভ অয়েল দিয়ে আলতো করে ম্যাসাজ করলে লিম্ফ্যাটিক ড্রেনেজ বাড়ে এবং ব্যথা কমে। স্ট্রেস বা মানসিক চাপ হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে, তাই টেনশন মুক্ত থাকুন।

কখন অবশ্যই ডাক্তারের কাছে যাবেন?

অধিকাংশ ব্যথা নিজে থেকেই ভালো হয়ে যায়। তবে নিচের লক্ষণগুলো দেখলে দেরি করবেন না:


১. ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হলে: যদি ব্যথা ২-৩ সপ্তাহের বেশি থাকে এবং মাসিকের পরেও না কমে।
২. নির্দিষ্ট পয়েন্টে ব্যথা: যদি পুরো স্তনে ব্যথা না হয়ে, একটি নির্দিষ্ট জায়গায় তীব্র ব্যথা থাকে এবং হাত দিলে খুব লাগে।
৩. চাকা বা লাম্প: ব্যথার সাথে যদি কোনো শক্ত চাকা অনুভব করেন যা নড়াচড়া করে না।
৪. ইনফেকশনের লক্ষণ: স্তন লাল হয়ে গেলে, গরম হয়ে গেলে বা জ্বর আসলে।
৫. নিপল পরিবর্তন: নিপল দিয়ে রক্ত বা পুঁজের মতো কিছু বের হলে।
৬. পিত্তথলির লক্ষণ: যদি ব্যথার সাথে বমি ভাব, ডান কাঁধে ব্যথা বা পেটের ডান দিকে ব্যথা থাকে।

ডান ব্রেস্ট ব্যথার সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

ডান স্তনে ব্যথা কি লিভার সমস্যার লক্ষণ?

উত্তর: সরাসরি লিভারের ব্যথার সাথে স্তনের সম্পর্ক নেই। তবে লিভার বড় হয়ে গেলে (Hepatomegaly) বা পিত্তথলিতে পাথর থাকলে সেই ব্যথা ডান পাঁজরের নিচে বা ডান স্তনের নিচে অনুভূত হতে পারে। একে রেফার্ড পেইন বলে।

গ্যাস্ট্রিকের কারণে কি স্তনে ব্যথা হতে পারে?

উত্তর: গ্যাস্ট্রিকের ব্যথা সাধারণত পেটের ওপরের অংশে বা বুকের মাঝখানে হয়। তবে তীব্র গ্যাস হলে তা ডায়াফ্রামে চাপ দেয় এবং বুকের যেকোনো পাশে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে।

মোবাইল ফোন বুক পকেটে বা ব্রাতে রাখলে কি ব্যথা হয়?

উত্তর: যদিও এর নিশ্চিত প্রমাণ নেই, তবুও সতর্কতার জন্য মোবাইল ফোন ব্রা-এর ভেতরে বা বুকের কাছে না রাখাই ভালো। রেডিয়েশন বা ফোনের তাপ দীর্ঘমেয়াদী অস্বস্তি তৈরি করতে পারে।

উপসংহার:

ডান ব্রেস্টে ব্যথা মানেই ক্যান্সার নয়। ৯০ ভাগ ক্ষেত্রেই এটি হরমোনজনিত পরিবর্তন, পেশীর টান, ভুল সাইজের ব্রা বা পিত্তথলির সমস্যার কারণে হয়।

অহেতুক আতঙ্কিত হয়ে মানসিক শান্তি নষ্ট করবেন না। নিজের শরীরের যত্ন নিন, সঠিক মাপের অন্তর্বাস পরুন এবং পুষ্টিকর খাবার খান। ক্যাফেইন বর্জন করুন। তবে যদি ব্যথার সাথে চাকা থাকে বা ব্যথা তীব্র হয় যা দৈনন্দিন কাজে ব্যাঘাত ঘটায়, তবে অবহেলা না করে একজন ব্রেস্ট স্পেশালিস্ট বা সার্জনের পরামর্শ নিন।

সচেতনতাই সুস্বাস্থ্যের চাবিকাঠি। সুস্থ থাকুন, নিরাপদে থাকুন।

(বিঃদ্রঃ এই ব্লগটি সাধারণ স্বাস্থ্য সচেতনতা ও তথ্যের জন্য লেখা হয়েছে। এটি কখনোই সরাসরি ডাক্তারের পরামর্শের বিকল্প নয়। কোনো অস্বাভাবিকতা মনে হলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন।)

Scroll to Top