থাইরয়েড হলে কি কি সমস্যা হয়

থাইরয়েড হলে কি কি সমস্যা হয়? লক্ষণ, কারণ, প্রতিকার ও পূর্ণাঙ্গ ডায়েট চার্ট

আপনার কি ইদানীং অকারণে খুব ক্লান্তি লাগছে? অল্প খেলেও ওজন বেড়ে যাচ্ছে কিংবা ভালোমতো খেয়েও শুকিয়ে যাচ্ছেন? চুল পড়ে যাচ্ছে বা মেজাজ খিটখিটে থাকছে? যদি উত্তর ‘হ্যাঁ’ হয়, তবে এই ব্লগটি আপনার জন্য অত্যন্ত জরুরি। কারণ এগুলো সাধারণ কোনো সমস্যা নাও হতে পারে, বরং এগুলো হতে পারে আপনার গলার ভেতরে থাকা ছোট একটি গ্রন্থি বা গ্ল্যান্ডের আর্তনাদ—যার নাম থাইরয়েড (Thyroid)

অনেকেই থাইরয়েড শব্দটির সাথে পরিচিত, কিন্তু এটি আসলে কী, এটি কাজ না করলে শরীরে কী কী ভয়াবহ সমস্যা হতে পারে এবং এর সঠিক চিকিৎসা কী—তা সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা রাখেন না। আজকের ব্লগে আমরা চিকিৎসাবিজ্ঞানের আলোকে এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) গাইডলাইন মেনে থাইরয়েড সমস্যার আদ্যপান্ত জানব।

থাইরয়েড কি? সহজ ভাষায় পরিচিতি

আমাদের গলার সামনের দিকে, ঠিক শ্বাসনালীর ওপরে ‘প্রজাপতি’র (Butterfly) মতো দেখতে ছোট একটি গ্রন্থি থাকে।

এটিই হলো থাইরয়েড গ্ল্যান্ড। আকার-আকৃতিতে ছোট হলেও, এর কাজ বিশাল।

একে বলা যেতে পারে আমাদের শরীরের ‘ইঞ্জিন কন্ট্রোলার’। গাড়ির ইঞ্জিন যেমন ঠিক করে গাড়ি কত জোরে বা আস্তে চলবে, তেমনি থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন (T3 এবং T4) ঠিক করে আমাদের শরীরের মেটাবলিজম বা শক্তি খরচের গতি কেমন হবে। আমাদের হার্টবিট, শরীরের তাপমাত্রা, হজমশক্তি, এমনকি মস্তিষ্কের বিকাশ—সবকিছুই নিয়ন্ত্রণ করে এই থাইরয়েড হরমোন।

থাইরয়েড সমস্যা মূলত দুই ধরণের:

থাইরয়েডের সমস্যা বুঝতে হলে আপনাকে আগে বুঝতে হবে এটি কীভাবে কাজ করে। যখন এই গ্রন্থি ঠিকমতো কাজ করে না, তখন প্রধানত দুই ধরণের সমস্যা দেখা দেয়:

১. হাইপোথাইরয়েডিজম (Hypothyroidism)

সহজ কথায়, থাইরয়েড গ্ল্যান্ড যখন ‘অলস’ হয়ে যায় বা পর্যাপ্ত পরিমাণে হরমোন তৈরি করতে পারে না। ফলে শরীরের সব কাজ ধীরগতির হয়ে যায়। আমাদের দেশে এই সমস্যাটিই সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।

২. হাইপারথাইরয়েডিজম (Hyperthyroidism)

যখন থাইরয়েড গ্ল্যান্ড ‘অতিসক্রিয়’ হয়ে যায় এবং প্রয়োজনের চেয়ে অনেক বেশি হরমোন তৈরি করতে শুরু করে। ফলে শরীরের ইঞ্জিন খুব দ্রুত চলতে শুরু করে।

থাইরয়েড হলে কি কি সমস্যা হয়?

একজন মানুষের শরীরে থাইরয়েড হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হলে মাথা থেকে পা পর্যন্ত বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে। আমরা হাইপো এবং হাইপার—দুটি অবস্থার লক্ষণ আলাদাভাবে আলোচনা করব।

ক. হাইপোথাইরয়েডিজম (হরমোন কমে গেলে) এর লক্ষণ

যাদের থাইরয়েড হরমোন কম, তাদের শরীরে নিচের সমস্যাগুলো প্রকট হয়ে ওঠে:

১. অস্বাভাবিক ওজন বৃদ্ধি:

আপনি হয়তো ডায়েট করছেন, অল্প খাচ্ছেন, তবুও ওজন কমছে না বরং বাড়ছে। হাইপোথাইরয়েডিজমে মেটাবলিজম ধীর হয়ে যায়, ফলে শরীর ক্যালোরি পোড়াতে পারে না এবং তা চর্বি হিসেবে জমা হয়।

২. তীব্র ক্লান্তি ও দুর্বলতা:

রাতে পর্যাপ্ত ঘুমানোর পরেও সকালে উঠতে ইচ্ছে করে না। সারাদিন শরীর ম্যাজম্যাজ করে এবং অল্প কাজ করলেই হাঁপিয়ে ওঠেন।

৩. শীত সহ্য করতে না পারা:

গরমকালেও আপনার শীত শীত লাগতে পারে। হাত-পা সবসময় ঠান্ডা থাকে। কারণ থাইরয়েড হরমোন শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।

৪. চুল পড়া ও শুষ্ক ত্বক:

চুল পড়ার অন্যতম প্রধান কারণ এটি। চুল রুক্ষ হয়ে যায়, গোড়া থেকে উঠে আসে। ত্বক খসখসে হয়ে যায়, অনেক সময় চামড়া ফেটে যায়।

৫. কোষ্ঠকাঠিন্য (Constipation):

হজম প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যাওয়ার কারণে পেট পরিষ্কার হতে চায় না। দীর্ঘমেয়াদী কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দেয়।

৬. মাসিকের সমস্যা (নারীদের ক্ষেত্রে):

মাসিক অনিয়মিত হয়ে যায়। অনেক সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ (Heavy Bleeding) হয় এবং মাসিক অনেক দিন ধরে চলে।

৭. ডিপ্রেশন বা বিষণ্নতা:

কোনো কারণ ছাড়াই মন খারাপ থাকা, কাজে মনোযোগ দিতে না পারা এবং স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া (Brain Fog) হাইপোথাইরয়েডিজমের লক্ষণ।

৮. গলার স্বর পরিবর্তন:

গলার স্বর ভারী বা কর্কশ (Hoarse voice) হয়ে যেতে পারে।

খ. হাইপারথাইরয়েডিজম (হরমোন বেড়ে গেলে) এর লক্ষণ

যাদের শরীরে হরমোন অতিরিক্ত তৈরি হয়, তাদের সমস্যাগুলো হয় উল্টো:

১. ওজন কমে যাওয়া:

আপনি প্রচুর খাচ্ছেন, কিন্তু তবুও ওজন কমে যাচ্ছে। শরীরের ইঞ্জিন এত দ্রুত চলে যে সব শক্তি দ্রুত খরচ হয়ে যায়।

২. বুক ধড়ফড় করা (Palpitation):

বসে থাকা অবস্থাতেও হার্টবিট খুব দ্রুত হয়। মনে হয় বুক ধড়ফড় করছে। রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে।

৩. অতিরিক্ত গরম লাগা ও ঘাম:

সবার যখন আরাম লাগছে, তখন আপনার প্রচণ্ড গরম লাগবে এবং শরীর দিয়ে অতিরিক্ত ঘাম বের হবে।

৪. হাত কাঁপা:

হাত সোজা করে রাখলে আঙুলগুলো কাঁপতে থাকে (Tremor)। হাতের লেখা খারাপ হয়ে যেতে পারে বা গ্লাস ধরতে অসুবিধা হতে পারে।

৫. মেজাজ খিটখিটে হওয়া:

অল্পতেই রেগে যাওয়া, অস্থিরতা (Anxiety) এবং রাতে ঘুম না হওয়া (Insomnia)।

৬. চোখের সমস্যা:

অনেক সময় চোখ বড় বড় হয়ে যায় বা কোটর থেকে বেরিয়ে আসছে বলে মনে হয় (Grave’s Ophthalmopathy)।

৭. পাতলা পায়খানা:

হজম প্রক্রিয়া খুব দ্রুত হওয়ায় ঘন ঘন পায়খানা হতে পারে।

নারীদের জীবনে থাইরয়েডের প্রভাব (বিশেষ সতর্কবার্তা)

পুরুষদের তুলনায় নারীদের থাইরয়েড সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি প্রায় ৮ থেকে ১০ গুণ বেশি। নারীদের জীবনের বিভিন্ন ধাপে এটি মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।

১. গর্ভধারণে সমস্যা (Infertility)

অনেক নারীই জানেন না যে তাদের বন্ধ্যত্বের মূল কারণ লুকিয়ে আছে থাইরয়েডে। থাইরয়েড হরমোনের ভারসাম্যহীনতা ওভুলেশন (ডিম্বাণু নিঃসরণ) প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে। ফলে গর্ভধারণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

২. গর্ভাবস্থায় ঝুঁকি

গর্ভাবস্থায় মায়ের থাইরয়েড হরমোন কম থাকলে বাচ্চার মস্তিষ্কের বিকাশ ঠিকমতো হয় না। এর ফলে:

  • গর্ভপাত (Miscarriage) হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
  • বাচ্চা কম বুদ্ধি সম্পন্ন (Low IQ) হতে পারে।
  • প্রি-ম্যাচিউর ডেলিভারি হতে পারে।
    তাই গর্ভাবস্থার শুরুতেই TSH পরীক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি।

৩. পিসিওএস (PCOS) এর সাথে সম্পর্ক

যাদের পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (PCOS) আছে, তাদের থাইরয়েড সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। এই দুটি সমস্যা একসাথে থাকলে ওজন কমানো এবং পিরিয়ড ঠিক করা খুব চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়ে।

থাইরয়েড সমস্যা কেন হয়? (Causes)

কেন আপনার থাইরয়েড গ্ল্যান্ড ঠিকমতো কাজ করছে না? এর পেছনে বেশ কিছু কারণ থাকতে পারে:

১. আয়োডিনের অভাব:

বিশ্বব্যাপী থাইরয়েড সমস্যার প্রধান কারণ হলো খাবারে আয়োডিনের অভাব। তবে বাংলাদেশে এখন আয়োডিনযুক্ত লবণের কারণে এই সমস্যা কিছুটা কমেছে।

২. অটোইমিউন রোগ (Autoimmune Disease):

সবচেয়ে বড় কারণ হলো এটি। যখন আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভুল করে নিজের থাইরয়েড গ্ল্যান্ডকেই শত্রু মনে করে আক্রমণ করে।

  • হাইপোথাইরয়েডিজমের ক্ষেত্রে একে বলে ‘হাশিমোটো ডিজিজ’ (Hashimoto’s thyroiditis)
  • হাইপারথাইরয়েডিজমের ক্ষেত্রে একে বলে ‘গ্রেভস ডিজিজ’ (Graves’ disease)

৩. অতিরিক্ত মানসিক চাপ (Stress):

দীর্ঘমেয়াদী স্ট্রেস বা টেনশন থাইরয়েড গ্ল্যান্ডের কার্যকারিতা কমিয়ে দিতে পারে।

৪. জেনেটিক বা বংশগত:

পরিবারে মা, খালা বা বোনের থাকলে আপনার হওয়ার ঝুঁকি বেশি।

৫. ভুল খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রা:

প্রসেসড ফুড, সয়া পণ্য অতিরিক্ত খাওয়া এবং অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে।

রোগ নির্ণয়: কোন টেস্ট করবেন?

লক্ষণ দেখে সন্দেহ হলে ডাক্তাররা সাধারণত একটি রক্ত পরীক্ষা দেন, যাকে বলা হয় ‘Thyroid Profile’। এতে তিনটি জিনিসের মাত্রা দেখা হয়:

১. TSH (Thyroid Stimulating Hormone): এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। TSH বাড়লে বুঝবেন থাইরয়েড হরমোন কম (Hypo), আর TSH কমলে বুঝবেন থাইরয়েড হরমোন বেশি (Hyper)।

২. T4 (Thyroxine): মূল থাইরয়েড হরমোন।

৩. T3 (Triiodothyronine): সক্রিয় হরমোন।

পরামর্শ: সকালে খালি পেটে এই রক্ত পরীক্ষাটি করা সবচেয়ে ভালো।

থাইরয়েড রোগীর খাবার: কি খাবেন, কি বাদ দেবেন?

ঔষধের পাশাপাশি সঠিক ডায়েট বা খাদ্যাভ্যাস থাইরয়েড নিয়ন্ত্রণে ৫০% ভূমিকা রাখে।

কি খাবেন (Do’s)

  • আয়োডিন যুক্ত খাবার: সামুদ্রিক মাছ, আয়োডিনযুক্ত লবণ, ডিম, দুধ ও দই।
  • সেলেনিয়াম ও জিংক: থাইরয়েড হরমোন তৈরির জন্য এগুলো জরুরি। বাদাম (বিশেষ করে ব্রাজিল নাট বা কাজুবাদাম), সূর্যমুখীর বীজ, মাংস এবং ডাল খান।
  • ফলমূল ও শাকসবজি: অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যুক্ত খাবার শরীরের প্রদাহ কমায়।
  • ভিটামিন ডি: সকালের রোদ গায়ে লাগান অথবা ডাক্তারের পরামর্শে সাপ্লিমেন্ট নিন।

কি খাবেন না বা কম খাবেন (Don’ts)

কিছু খাবার আছে যা থাইরয়েড হরমোন উৎপাদনে বাধা দেয়, এদের ‘গয়ট্রোজেন’ (Goitrogens) বলা হয়। বিশেষ করে যাদের হাইপোথাইরয়েডিজম আছে, তাদের এগুলো কাঁচা খাওয়া নিষেধ।

  • ক্রুসিফেরাস সবজি: বাঁধাকপি, ফুলকপি, ব্রোকলি, ওলকপি।
    • টিপস: এগুলো কাঁচা খাবেন না। তবে ভালো করে রান্না করে বা সেদ্ধ করে খেলে ক্ষতিকর প্রভাব নষ্ট হয়ে যায়, তখন অল্প পরিমাণে খাওয়া যাবে।
  • সয়া পণ্য: সয়াবিন, সয়া মিল্ক বা টফু অতিরিক্ত খেলে হরমোনের সমস্যা হতে পারে।
  • গ্লুটেন: অনেকের ক্ষেত্রে গমের তৈরি খাবার (রুটি, পাস্তা) সমস্যা বাড়ায়। তারা গ্লুটেন-ফ্রি ডায়েট চেষ্টা করতে পারেন।
  • চিনি ও প্রসেসড ফুড: এগুলো মেটাবলিজম আরও ধীর করে দেয় এবং ওজন বাড়ায়।

চিকিৎসা ও প্রতিকার:

থাইরয়েড ধরা পড়লে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। এটি ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপের মতোই একটি নিয়ন্ত্রণযোগ্য সমস্যা।

১. হাইপোথাইরয়েডিজমের চিকিৎসা:

এর প্রধান চিকিৎসা হলো বাইরে থেকে হরমোন গ্রহণ করা। ডাক্তাররা সাধারণত ‘লেভোথাইরক্সিন’ (Levothyroxine) নামক ট্যাবলেটের পরামর্শ দেন।

  • নিয়ম: এটি প্রতিদিন সকালে খালি পেটে খেতে হয়। ঔষধ খাওয়ার অন্তত ৩০-৪৫ মিনিট পর নাস্তা করতে হয়। অন্য কোনো গ্যাসের ঔষধ বা ক্যালসিয়াম ঔষধ এর সাথে খাওয়া যাবে না।
  • সতর্কতা: ডাক্তারকে না জিজ্ঞেস করে কখনোই ঔষধ বন্ধ করবেন না বা ডোজ কমাবেন না।

২. হাইপারথাইরয়েডিজমের চিকিৎসা:

এর জন্য হরমোন কমানোর ঔষধ (Anti-thyroid drugs), রেডিওঅ্যাক্টিভ আয়োডিন থেরাপি বা কখনো কখনো সার্জারির প্রয়োজন হতে পারে।

থাইরয়েড নিয়ে সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

থাইরয়েড হলে আর কোনোদিন মা হওয়া যায় না।

এটি ভুল। হরমোন নিয়ন্ত্রণে থাকলে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চললে সুস্থ সন্তানের জন্ম দেওয়া ১০০% সম্ভব।

একবার ঔষধ শুরু করলে সারা জীবন খেতে হবে।

অধিকাংশ ক্ষেত্রে (বিশেষ করে হাইপোথাইরয়েডিজমে) এটি সারা জীবন খেতে হয়। তবে গর্ভাবস্থা জনিত বা ভাইরাল থাইরয়েডাইটিসের ক্ষেত্রে এটি সাময়িক হতে পারে।

ফুলকপি-বাঁধাকপি একদম খাওয়া যাবে না।

কাঁচা খাওয়া যাবে না। কিন্তু ভালো করে রান্না করলে এর গয়ট্রোজেনিক উপাদান নষ্ট হয়ে যায়, তখন পরিমিত পরিমাণে খাওয়া নিরাপদ।

উপসংহার:

থাইরয়েড সমস্যা এখন আর কোনো বিরল রোগ নয়। আপনার শরীরের ছোটখাটো পরিবর্তনগুলো, যেমন—অকারণে ওজন বাড়া, ক্লান্তি বা চুল পড়া—এগুলোকে অবহেলা করবেন না। এগুলো আপনার শরীরের ইঞ্জিনের ত্রুটির সংকেত হতে পারে।

সময়মতো ধরা পড়লে একটি মাত্র ছোট ট্যাবলেটের মাধ্যমে আপনি সম্পূর্ণ সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন। তাই লক্ষণগুলো মিললে দেরি না করে একজন হরমোন বিশেষজ্ঞ বা মেডিসিন বিশেষজ্ঞের (Endocrinologist) পরামর্শ নিন।

নিজের শরীরের যত্ন নিন, সঠিক খাবার খান এবং স্ট্রেস মুক্ত থাকার চেষ্টা করুন। সুস্থতাই সকল সুখের মূল।

তথ্যসূত্র (References):

এই ব্লগটি একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসকের দৃষ্টিকোণ থেকে এবং আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের সর্বশেষ গাইডলাইন (Evidence-based Medicine) অনুসরণ করে লেখা হয়েছে। এখানে কোনো অবৈজ্ঞানিক টোটকা বা ক্ষতিকর পরামর্শ দেওয়া হয়নি। ব্লগটির উদ্দেশ্য হলো পাঠকদের সঠিক তথ্য দিয়ে সচেতন করা, যাতে তারা সময়মতো চিকিৎসা নিতে পারেন। তথ্যের নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে বিশ্বস্ত মেডিকেল সোর্স ব্যবহার করা হয়েছে।

Sources and References:

  1. World Health Organization (WHO): Iodine deficiency and Thyroid disorders.
  2. American Thyroid Association (ATA): General Information on Hypothyroidism and Hyperthyroidism.
  3. Mayo Clinic: Thyroid disease – Diagnosis and treatment.
  4. National Health Service (NHS, UK): Underactive thyroid (hypothyroidism).

(বিঃদ্রঃ এই ব্লগটি সাধারণ স্বাস্থ্য সচেতনতা ও তথ্যের জন্য লেখা হয়েছে। এটি কখনোই সরাসরি ডাক্তারের প্রেসক্রিপশনের বিকল্প নয়। কোনো ঔষধ শুরু বা বন্ধ করার আগে অবশ্যই আপনার চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।)

Scroll to Top