বড়দের ঘন ঘন কৃমি হওয়ার কারণ সম্পর্কে জানবো:
আমরা ছোটবেলায় শুনেছি, “বাচ্চারা মাটি খায়, তাই তাদের কৃমি হয়।” কিন্তু আপনি তো এখন বড় হয়েছেন, মাটিও খান না, যথেষ্ট পরিষ্কার থাকেন—তবুও কেন আপনার বা আপনার পরিবারের বয়স্ক সদস্যদের বারবার কৃমি হচ্ছে? ঔষধ খাচ্ছেন, কিছুদিন ভালো থাকছেন, আবার সেই একই সমস্যা ফিরে আসছে।
বর্তমানে এমনও রোগী পাওয়া যাই যারা বলেন, “ডাক্তার সাহেব, লজ্জার কথা কাকে বলব? এই বয়সে এসেও কৃমির যন্ত্রণায় ঘুমাতে পারি না।”
বিশ্বাস করুন, এতে লজ্জার কিছু নেই। কৃমি একটি পরজীবী ঘটিত সংক্রমণ যা যেকোনো বয়সের মানুষের হতে পারে। তবে বড়দের ক্ষেত্রে বারবার কৃমি হওয়ার পেছনে এমন কিছু কারণ থাকে যা আমরা সচরাচর খেয়াল করি না। আজকের ব্লগে আমরা সেই গোপন কারণগুলো খুঁজে বের করব এবং জানব কীভাবে এই সমস্যা থেকে স্থায়ী মুক্তি পাওয়া যায়।
কৃমি আসলে কি? বড়দের কেন হয়?
কৃমি হলো এক ধরণের পরজীবী (Parasite), যা মানুষের অন্ত্রে বা পেটে বসবাস করে এবং আমাদের শরীর থেকে পুষ্টি শোষণ করে বেঁচে থাকে। বড়দের শরীরে সাধারণত গোল কৃমি (Roundworm), ফিতা কৃমি (Tapeworm), সুতা কৃমি (Pinworm) এবং বক্র কৃমি বা হুকওয়ার্মের (Hookworm) সংক্রমণ বেশি দেখা যায়।
বড়দের কৃমি হওয়ার মূল কারণ হলো “অসাবধানতা” এবং “ভুল ধারণা”। আমরা মনে করি আমরা যথেষ্ট পরিষ্কার, কিন্তু আমাদের দৈনন্দিন জীবনের ছোট ছোট কিছু অভ্যাসের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে কৃমির ডিম।
বড়দের ঘন ঘন কৃমি হওয়ার কারণ গুলো হলো:
ঔষধ খাওয়ার পরেও কেন বারবার কৃমি ফিরে আসছে? এর পেছনে মূলত নিচের কারণগুলো দায়ী:
১. অটো-ইনফেকশন (Auto-infection) বা নিজের দ্বারা পুনরায় সংক্রমণ
এটি বড়দের ঘন ঘন কৃমি হওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ। বিশেষ করে সুতা কৃমির (Pinworm) ক্ষেত্রে এটি ঘটে।
- প্রক্রিয়া: সুতা কৃমি সাধারণত রাতের বেলা মলদ্বার বা পায়ুপথের বাইরে এসে ডিম পাড়ে। এর ফলে সেখানে তীব্র চুলকানি হয়। ঘুমের মধ্যে অজান্তেই আপনি সেখানে হাত দিয়ে চুলকান। কৃমির হাজার হাজার আণুবীক্ষণিক ডিম আপনার নখের ভেতরে ঢুকে যায়।
- পুনরায় সংক্রমণ: সকালে সেই হাত ভালো করে না ধুয়েই যদি আপনি নাস্তা করেন বা মুখে হাত দেন, তবে ডিমগুলো আবার আপনার পেটে চলে যায়। এভাবেই একটি চক্র বা Cycle চলতে থাকে এবং আপনি ঔষধ খাওয়ার পরেও বারবার আক্রান্ত হন।
২. পরিবারের সবাইকে চিকিৎসা না করা (Family Dose Missed)
এটি হলো দ্বিতীয় প্রধান ভুল। আপনি হয়তো কৃমির ঔষধ খেলেন, কিন্তু আপনার স্ত্রী/স্বামী বা সন্তান খেল না।
- কৃমি অত্যন্ত ছোঁয়াচে। একই বিছানা, তোয়ালে বা বাথরুম ব্যবহারের মাধ্যমে পরিবারের অন্য সদস্যদের শরীরে কৃমি আগেই ছড়িয়ে গেছে।
- আপনি সুস্থ হওয়ার কয়েকদিন পর তাদের শরীর থেকে আবার কৃমি আপনার শরীরে চলে আসবে। একে বলা হয় Cross Infection। তাই পরিবারের একজন আক্রান্ত হওয়া মানেই সবাই আক্রান্ত।
৩. বাইরের খোলা খাবার ও সালাদ
বড়রা কাজের প্রয়োজনে দিনের অনেকটা সময় বাইরে থাকেন।
- রাস্তার খাবার: ফুচকা, চটপটি, ভেলপুরি বা খোলা শরবত—এগুলোতে ব্যবহৃত পানি এবং মশলা প্রায়শই দূষিত থাকে।
- কাঁচা সালাদ: রেস্টুরেন্টে বা ভাতের হোটেলে যে সালাদ (শসা, টমেটো, গাজর) দেওয়া হয়, তা অনেক সময় ঠিকমতো ধোয়া হয় না। শাকসবজির গায়ে কৃমির ডিম লেগে থাকে যা খালি চোখে দেখা যায় না। এই কাঁচা সালাদই বড়দের কৃমি সংক্রমণের বড় উৎস।
৪. অর্ধসেদ্ধ মাংস খাওয়া
আজকাল অনেকেই স্টেক, গ্রিল বা বারবিকিউ খেতে পছন্দ করেন।
- গরুর মাংস বা শুকরের মাংস যদি খুব ভালোভাবে সেদ্ধ না হয় (Undercooked), তবে তার ভেতরে থাকা ফিতা কৃমির লার্ভা (Tapeworm Larvae) জীবিত থেকে যায়। এই মাংস খাওয়ার মাধ্যমে ফিতা কৃমি মানুষের অন্ত্রে, এমনকি মস্তিষ্কেও ছড়িয়ে পড়তে পারে (Neurocysticercosis)।
৫. টাকা বা নোটের মাধ্যমে সংক্রমণ
শুনতে অবাক লাগলেও এটি সত্য। টাকা বা নোট হাজারো মানুষের হাত ঘুরে আপনার হাতে আসে। গবেষণায় দেখা গেছে, টাকার নোটে প্রচুর পরিমাণে জীবাণু এবং কৃমির ডিম লেগে থাকতে পারে। টাকা গোনার পর সেই হাত না ধুয়ে খাবার খেলে কৃমি হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
৬. খালি পায়ে হাঁটা (Hookworm Infection)
গ্রামাঞ্চলে বা এমনকি শহুরে বাসার বাথরুমেও খালি পায়ে হাঁটার অভ্যাস অনেকের আছে।
- হুকওয়ার্ম বা বক্র কৃমি মাটির সংস্পর্শে থাকে। খালি পায়ে হাঁটলে এগুলো পায়ের পাতার চামড়া ভেদ করে সরাসরি রক্তে মিশে যায় এবং সেখান থেকে ফুসফুস হয়ে পেটে পৌঁছায়।
৭. স্বাস্থ্যবিধির অভাব ও নখ বড় রাখা
অনেক বড় মানুষ ফ্যাশন করে হাতের নখ বড় রাখেন। কিন্তু এই বড় নখই হলো জীবাণুর বাসা। নখের কোণায় জমে থাকা ময়লার সাথে কৃমির ডিম পেটে চলে যায়। এছাড়া খাওয়ার আগে সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার আলস্য থেকেও বড়রা আক্রান্ত হন।
৮. শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া
যাদের—
- ডায়াবেটিস
- লিভারের সমস্যা
- অপুষ্টি
- বার্ধক্য
- ঘন ঘন অসুখ
আছে, তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে।
ফলে শরীরে কৃমি সহজে বাসা বাঁধে এবং বারবার সংক্রমণ হতে পারে।
৯. অনিয়মিত কৃমির ওষুধ খাওয়া
অনেকেই কৃমির ওষুধ অর্ধেক খান বা ভুল ডোজ নেন। আবার ৬ মাসে একবার যে কৃমির ওষুধ খাওয়া দরকার—তা অনেকেই সঠিকভাবে পালন করেন না।
এর ফলে কৃমির ডিম শরীরে থেকে যায় এবং আবার বাড়তে থাকে।
১০. অপরিষ্কার বিছানাপত্র
বিছানার চাদর, বালিশের কাভার, কম্বল অনেকেই কয়েক সপ্তাহ ধোয়া ছাড়া ব্যবহার করেন। এই জিনিসগুলোর মধ্যে কৃমির ডিম থাকতে পারে।
বিশেষ করে পিনওয়ার্মের ডিম কাপড়ে, বিছানায় বা বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে।
১১. ঘামাচ্চি, স্ক্যাবিস বা অ্যালার্জির কারণে চুলকানো জায়গায় সংক্রমণ
চুলকানো হাতে পরে খাবার বানানো বা খাওয়া হলে কৃমির ডিম খুব সহজে মুখে চলে যেতে পারে।
১২. অনিরাপদ যৌন জীবন
কিছু ক্ষেত্রে যৌনসংসর্গের মাধ্যমে রেক্টাল এরিয়া থেকে কৃমি ছড়িয়ে পড়তে পারে, বিশেষ করে পিনওয়ার্ম ও কিছু পরজীবী।
বড়দের কৃমির লক্ষণ: শুধু চুলকানি নয়
বাচ্চাদের লক্ষণ আর বড়দের লক্ষণ সবসময় এক হয় না। বড়দের ক্ষেত্রে নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে সতর্ক হতে হবে:
- দীর্ঘমেয়াদী ক্লান্তি ও দুর্বলতা: কৃমি আপনার শরীরের পুষ্টি খেয়ে ফেলে, তাই ভালো খাবার খেয়েও আপনি দুর্বল বোধ করেন।
- পেট ফাঁপা ও গ্যাস: ঘন ঘন গ্যাস, পেট ফেঁপে থাকা বা পেটে অস্বস্তি হওয়া।
- অনিয়মিত পায়খানা: কখনো কোষ্ঠকাঠিন্য আবার কখনো পাতলা পায়খানা।
- পায়ুপথে চুলকানি: বিশেষ করে রাতে ঘুমের সময় মলদ্বারে অস্বস্তি বা চুলকানি (সুতা কৃমির লক্ষণ)।
- ওজন কমে যাওয়া: কোনো কারণ ছাড়াই ওজন কমতে থাকা।
- রক্তশূন্যতা (Anemia): হুকওয়ার্ম অন্ত্রের গায়ে লেগে রক্ত চুষে খায়, ফলে শরীরে হিমোগ্লোবিন কমে যায় এবং চেহারা ফ্যাকাসে হয়ে যায়।
- কাশি: কৃমির লার্ভা যখন ফুসফুসের মধ্য দিয়ে যায়, তখন শুকনো কাশি বা শ্বাসকষ্ট হতে পারে।
ঘন ঘন সংক্রমণ বন্ধ করতে চিকিৎসকের পরামর্শ (Treatment Protocol)
এখন প্রশ্ন হলো, এই বিরক্তিকর সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন কীভাবে? শুধু ঔষধ খেলেই হবে না, সঠিক নিয়ম মানতে হবে।
১. সঠিক ঔষধ ও ডোজ (Medication)
বড়দের জন্য কৃমির ঔষধের ডোজ বাচ্চাদের চেয়ে ভিন্ন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) গাইডলাইন অনুযায়ী:
- ঔষধের নাম: সাধারণত অ্যালবেনডাজল (Albendazole – 400 mg) অথবা মেবেনডাজল (Mebendazole) ব্যবহার করা হয়।
- ডোজ: বড়দের জন্য সাধারণত অ্যালবেনডাজল ৪০০ মি.গ্রা. এর একটি ট্যাবলেট (Single Dose) রাতে ঘুমানোর আগে খেতে হয়। চিবিয়ে খাওয়া ভালো।
- রিপিট ডোজ (Repeat Dose): এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম ডোজ খাওয়ার ৭ দিন বা ১৪ দিন পর ঠিক একই নিয়মে আরেকটি ট্যাবলেট খেতে হবে।
- কারণ: প্রথম ডোজে পেটের জীবিত কৃমিগুলো মারা যায়, কিন্তু কৃমির ডিমগুলো মরে না। ৭-১৪ দিনে ওই ডিমগুলো ফুটে বাচ্চা হয়। তাই দ্বিতীয় ডোজটি সেই নতুন বাচ্চা কৃমিগুলোকে মারার জন্য জরুরি।
২. ফ্যামিলি ডোজ (Family Dose Rule)
এটি হলো কৃমি দূর করার গোল্ডেন রুল।
- যেদিন আপনি ঔষধ খাবেন, ঠিক সেই দিন সেই সময়ে আপনার বাড়ির প্রত্যেক সদস্যকে (বাচ্চা থেকে বুড়ো, এমনকি কাজের লোক) কৃমির ঔষধ খেতে হবে।
- কেউ একজন বাদ পড়লে পুরো চিকিৎসাই ব্যর্থ হতে পারে।
৩. ঔষধ পরবর্তী পরিচ্ছন্নতা
ঔষধ খাওয়ার পরের দিনই নিচের কাজগুলো করতে হবে:
- বিছানা পরিষ্কার: সবার বিছানার চাদর, বালিশের কাভার, মশারি এবং ব্যবহৃত তোয়ালে গরম পানি ও ডিটারজেন্ট দিয়ে ধুয়ে কড়া রোদে শুকাতে হবে।
- অন্তর্বাস পরিষ্কার: সবার অন্তর্বাস (Undergarments) গরম পানিতে ধুতে হবে। কারণ সুতা কৃমির ডিম কাপড়ে লেগে থাকতে পারে।
- টয়লেট পরিষ্কার: বাথরুম এবং কমোড ভালো করে জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে।
প্রতিরোধ ব্যবস্থা: যাতে আর ফিরে না আসে
ঔষধ খেয়ে কৃমি তাড়ালেন, কিন্তু যাতে আর ফিরে না আসে তার জন্য জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন আনতে হবে:
১. নখ ছোট রাখুন: হাত ও পায়ের নখ সবসময় ছোট রাখুন। বড় নখই হলো কৃমির ডিমের প্রধান বাহক।
২. হাত ধোয়ার অভ্যাস: * খাওয়ার আগে। * টয়লেট ব্যবহারের পর। * বাইরে থেকে ফিরে বা টাকা ধরার পর। * রান্না করার আগে। প্রতিবার সাবান দিয়ে অন্তত ২০ সেকেন্ড হাত ধুতে হবে।
৩. জুতো ব্যবহার: বাথরুমে যাওয়ার সময় সবসময় স্যান্ডেল ব্যবহার করুন। গ্রামের বাড়িতে মাটির সংস্পর্শে কাজ করলে জুতো পরুন।
৪. খাবারের সতর্কতা: * বাইরের খোলা খাবার ও পানি পরিহার করুন। * শাকসবজি ও ফলমূল খাওয়ার আগে খুব ভালোভাবে ধুয়ে নিন। সম্ভব হলে হালকা গরম লবণ পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। * মাছ-মাংস সবসময় সুসিদ্ধ করে (Well-cooked) খান।
৫. পানি: বিশুদ্ধ বা ফোটানো পানি পান করুন। ফিল্টারের পানি ব্যবহার করলে ফিল্টার নিয়মিত পরিষ্কার করুন।
কিছু প্রচলিত ভুল ধারণা (Myths vs Facts)
মিথ: “আমি তো চিনি বা মিষ্টি খাই না, তাও কেন কৃমি হয়?”
সত্য: মিষ্টি খেলে কৃমি হয়—এটি ভুল ধারণা। কৃমি থাকলে তারা মিষ্টি জাতীয় খাবার পছন্দ করে, কিন্তু মিষ্টি কৃমির জন্ম দেয় না। কৃমির জন্ম হয় অপরিচ্ছন্নতা থেকে।
মিথ: “কৃমির ঔষধ বছরে একবার খেলেই হয়।”
সত্য: আমাদের দেশের আবহাওয়ায় কৃমির প্রকোপ বেশি। তাই ডাক্তাররা পরামর্শ দেন প্রতি ৩ মাস বা ৪ মাস অন্তর (বছরে ৩ বার) পরিবারের সবাইকে কৃমির ঔষধ খেতে। যাদের ঝুঁকি কম, তারা ৬ মাস পর পর খেতে পারেন।
উপসংহার:
কৃমি কোনো সাধারণ সমস্যা নয়, এটি আপনার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয় এবং দীর্ঘমেয়াদী অপুষ্টির কারণ হয়। বড়দের ক্ষেত্রে এটি কর্মক্ষমতা কমিয়ে দেয় এবং অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।
লজ্জা না পেয়ে আজই সচেতন হোন। ঘন ঘন কৃমি হলে শুধু ফার্মেসির ঔষধের ওপর নির্ভর না করে একজন এমবিবিএস ডাক্তারের পরামর্শ নিন। হতে পারে আপনার অন্য কোনো পেটের পীড়া আছে যা কৃমির মতো মনে হচ্ছে।
সুস্থ থাকতে হলে—“সঠিক সময়ে ঔষধ খান, পরিবারের সবাইকে খাওয়ান এবং পরিচ্ছন্ন জীবনযাপন করুন।”
(বিঃদ্রঃ এই ব্লগটি সাধারণ স্বাস্থ্য সচেতনতা ও তথ্যের জন্য লেখা হয়েছে। আপনার যদি লিভারের সমস্যা বা গর্ভাবস্থা থাকে, তবে ঔষধ খাওয়ার আগে অবশ্যই রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।)


