বাম ব্রেস্ট ব্যথার কারণ

বাম ব্রেস্ট ব্যথার কারণ: হার্ট অ্যাটাক, গ্যাস নাকি অন্য কিছু?

শরীরের যেকোনো ব্যথা অস্বস্তিকর, কিন্তু ব্যথাটা যদি হয় বুকের বাম পাশে বা বাম স্তনে, তবে তা মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্কে রূপ নেয়। আমাদের সবার মনেই একটি বদ্ধমূল ধারণা আছে—”বাম দিকে ব্যথা মানেই হার্টের সমস্যা।”

অনেক নারী চিকিৎসকের কাছে এসে বলেন, “ডাক্তার, আমার বাম ব্রেস্টে চিনচিনে ব্যথা করছে, মাঝে মাঝে বগলের দিকেও ছড়িয়ে পড়ছে। আমার কি হার্ট অ্যাটাক হবে? নাকি এটা ব্রেস্ট ক্যান্সার?”

বাম স্তনে ব্যথার অধিকাংশ কারণই (প্রায় ৯০%) হার্টের সাথে সম্পর্কিত নয় এবং এটি ক্যানসারেরও প্রাথমিক লক্ষণ নয়। হরমোন, পেশীর টান, এমনকি গ্যাসের কারণেও এমন হতে পারে।

আজকের এই বিস্তারিত ব্লগে আমরা জানব—বাম ব্রেস্টে ব্যথার আসল কারণগুলো কী, কখন বুঝবেন এটি হার্টের ব্যথা আর কখন বুঝবেন এটি সাধারণ সমস্যা এবং ঘরোয়া উপায়ে এর সমাধান কী।

বাম ব্রেস্ট ব্যথা: এটি কি হার্ট অ্যাটাক? (Heart Attack vs Breast Pain)

যেহেতু ব্যথাটা বাম দিকে, তাই সবার আগে হার্টের বিষয়টি পরিষ্কার করা জরুরি। ব্রেস্টের ব্যথা এবং হার্টের ব্যথার মধ্যে কিছু মৌলিক পার্থক্য আছে।

হার্ট অ্যাটাকের ব্যথার লক্ষণ:

হার্টের ব্যথা সাধারণত স্তনের নির্দিষ্ট কোনো বিন্দুতে হয় না। এটি বুকের গভীরে হয়।

  • অনুভূতি: মনে হবে বুকের ওপর ভারী পাথর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে (Heavy Pressure) বা কেউ বুক চিপে ধরেছে।
  • ছড়িয়ে পড়া: ব্যথাটি বুক থেকে বাম হাত, ঘাড়, চোয়াল বা পিঠের দিকে ছড়িয়ে পড়ে।
  • অন্যান্য লক্ষণ: প্রচুর ঘাম হওয়া, শ্বাসকষ্ট, বমি বমি ভাব এবং মাথা ঘোরা।
  • অবস্থান: এটি স্তন টিস্যুর ব্যথা নয়, বরং বুকের হাড়ের (Sternum) ঠিক নিচে বা একটু বামে অনুভূত হয়।

ব্রেস্ট বা স্তন ব্যথার লক্ষণ:

  • অনুভূতি: ব্যথাটি সাধারণত তীক্ষ্ণ (Sharp), জ্বালাপোড়া বা চিনচিনে ধরণের হয়। মনে হয় সুই দিয়ে খোঁচা দিচ্ছে।
  • স্পর্শ করলে: ব্যথার জায়গায় হাত দিলে বা চাপ দিলে ব্যথা বাড়ে (Tender to touch)। হার্টের ব্যথায় বুকে চাপ দিলে ব্যথা বাড়ে না।
  • অবস্থান: ব্যথাটি স্তনের নির্দিষ্ট কোনো অংশে বা পুরো স্তন জুড়ে হতে পারে।

সিদ্ধান্ত: যদি আপনার ব্যথাটি জ্বালাপোড়া বা খোঁচা লাগার মতো হয় এবং হাত দিলে ব্যথা বাড়ে, তবে নিশ্চিত থাকুন এটি হার্টের সমস্যা নয়।

বাম ব্রেস্ট ব্যথার কারণ (Non-Cardiac Causes)

অনেকেই বাম স্তনে ব্যথা হলে হার্ট অ্যাটাক ভেবে ভয় পেয়ে যান। কিন্তু সব সময় হার্টের সমস্যার কারণে ব্যথা হয় না। হরমোন, হাড়, পেশী, গ্যাস এমনকি ভুল মাপের ব্রা-এর কারণেও এই ব্যথা হতে পারে।

চলুন বিস্তারিত জেনে নিই বাম স্তনে ব্যথার প্রধান কারণগুলো:

১. হরমোনের পরিবর্তন (Cyclical Breast Pain)

নারীদের স্তন ব্যথার সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো মাসিক চক্রের সাথে হরমোনের ওঠানামা। একে চিকিৎসাবিজ্ঞানে সাইক্লিক্যাল ম্যাস্টালজিয়া‘ (Cyclical Mastalgia) বলা হয়।

  • কেন হয়: মাসিকের ৫-৭ দিন আগে শরীরে ইস্ট্রোজেন এবং প্রোজেস্টেরন হরমোন বেড়ে যায়। এর ফলে স্তন টিস্যুতে পানি জমে (Water Retention) এবং স্তন ফুলে যায় বা ভারী হয়ে যায়।
  • লক্ষণ: সাধারণত দুই স্তনেই ব্যথা হয়, তবে অনেকের ক্ষেত্রে বাম স্তনে বেশি ব্যথা অনুভূত হতে পারে। মাসিকের শুরুতে ব্যথা বাড়ে এবং মাসিক শেষ হলে ব্যথা চলে যায়।
  • বয়স: এটি সাধারণত ২০ থেকে ৪০ বছর বয়সী নারীদের বেশি হয়।

২. বুকের হাড় বা তরুণাস্থির প্রদাহ (Costochondritis)

এটি এমন একটি সমস্যা যা প্রায়ই হার্ট অ্যাটাক ভেবে ভুল করা হয়।

  • কেন হয়: আমাদের পাঁজরের হাড়গুলো (Ribs) বুকের মাঝখানের হাড়ের (Sternum) সাথে যে তরুণাস্থি বা কার্টিলেজ দিয়ে যুক্ত থাকে, সেখানে যদি প্রদাহ বা ইনফ্ল্যামেশন হয়, তবে তীব্র ব্যথা হয়। একে কস্টোকন্ড্রাইটিস বলে।
  • লক্ষণ: ব্যথাটি ঠিক স্তনের নিচে বা পাশে অনুভূত হয়। জোরে শ্বাস নিলে বা ওই জায়গায় চাপ দিলে ব্যথা বাড়ে। যেহেতু এটি বাম পাঁজরে বেশি হয়, তাই মনে হয় ব্যথাটা স্তনের ভেতরে হচ্ছে। ভারী কাজ বা ভুল ভঙ্গিতে শোয়ার কারণে এটি হতে পারে।

৩. ভুল মাপের ব্রা ব্যবহার (Ill-fitting Bra)

বিশ্বাস করুন আর নাই করুন, প্রায় ৮০% নারী ভুল সাইজের ব্রা পরেন এবং এটিই তাদের ব্রেস্ট পেইনের অন্যতম প্রধান কারণ।

  • খুব টাইট ব্রা: বুকের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে এবং রক্ত সঞ্চালনে বাধা দেয়।
  • খুব ঢিলা ব্রা: স্তনকে সঠিক সাপোর্ট দিতে পারে না। ফলে হাঁটাচলা বা কাজের সময় স্তন টিস্যু ও লিগামেন্টে টান পড়ে (Cooper’s Ligament stretch)।
  • আন্ডারওয়্যার ব্রা: নিচে তার বা মেটাল দেওয়া ব্রা দীর্ঘক্ষণ পরলে তা বুকের পাঁজরে খোঁচা দেয় এবং বাম স্তনের নিচে ব্যথা সৃষ্টি করে।

৪. মাসল স্ট্রেইন বা পেশীতে টান (Muscle Strain)

স্তন বা ব্রেস্ট সরাসরি বুকের পেশীর (Pectoral Muscle) ওপরে অবস্থিত।

  • কেন হয়: আপনি যদি বাম হাত দিয়ে ভারী কিছু তোলেন, জিমে বুকের ব্যায়াম করেন, বা দীর্ঘক্ষণ একপাশে কাত হয়ে ঘুমান—তবে বুকের বামপাশের পেশীতে টান পড়তে পারে। এই পেশীর ব্যথাকে অনেকে ভুল করে স্তনের ব্যথা মনে করেন।
  • লক্ষণ: নড়াচড়া করলে বা চাপ দিলে ব্যথা বাড়ে।

. গ্যাস বা অ্যাসিডিটি (Gas & Acidity) 

শুনতে অবাক লাগলেও, পেটের গ্যাস বুকের বাম পাশে ব্যথার বড় কারণ।

  • কারণ: পাকস্থলী শরীরের বাম দিকে থাকে। তীব্র অ্যাসিডিটি বা গ্যাসের কারণে পাকস্থলী ফুলে গেলে তা ওপরের দিকে ডায়াফ্রাম ও হার্টে চাপ দেয়। এই ব্যথা অনেক সময় বুকের বাম পাশে বা স্তনের নিচে অনুভূত হয়। একে রেফার্ড পেইন বলা হয়।

. ব্রেস্ট সিস্ট ফাইব্রোসিস্টিক পরিবর্তন 

  • সিস্ট (Cyst): এগুলো পানিভর্তি ছোট থলি। মাসিকের সময় এগুলো আকারে বড় হয় এবং ব্যথা করে।
  • ফাইব্রোসিস্টিক পরিবর্তন: এটি ক্ষতিকর নয়। এতে ব্রেস্টের টিস্যু নরম বা কঠিন হয়ে ছোট ছোট গাঁট অনুভব হতে পারে।

. ফাইব্রএডিনোমা (Fibroadenoma)

এটি তরুণীদের (১৫-৩০ বছর) স্তন ব্যথার সাধারণ কারণ।

  • লক্ষণ: স্তনের ভেতরে রাবারের মতো শক্ত চাকা যা ধরলে নড়াচড়া করে। আকার বড় হলে এতে ব্যথা হতে পারে।

. মাস্টাইটিস (Mastitis) বা সংক্রমণ 

এটি সাধারণত যারা সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়াচ্ছেন তাদের হয়।

  • লক্ষণ: বাম ব্রেস্ট লাল হয়ে যাওয়া, ফুলে ওঠা, উত্তাপ অনুভব করা এবং জ্বরের সাথে তীব্র ব্যথা। এর জন্য এন্টিবায়োটিক প্রয়োজন হতে পারে।

. ক্যাফেইন বা খাদ্যাভ্যাস 

চা, কফি, সফট ড্রিংক বা চকোলেটে থাকা ক্যাফেইন ব্রেস্ট টিস্যুকে সেনসিটিভ করে তোলে, ফলে ব্যথা হতে পারে। এগুলো কমালে ব্যথা অনেক কমে।

১০. মানসিক চাপ (Stress) 

স্ট্রেস হরমোন বৃদ্ধি পেলে ব্রেস্ট টিস্যু বেশি সংবেদনশীল হয়ে ব্যথা সৃষ্টি করতে পারে।

কখন বুঝবেন এটি হার্টের ব্যথা বা ক্যান্সার?

. হৃদরোগ সম্পর্কিত ব্যথা (Heart Pain):

ব্রেস্টের ব্যথা খুব কম ক্ষেত্রেই হৃদরোগের সাথে সম্পর্কিত। তবে নিচের লক্ষণগুলো থাকলে সতর্ক হন:

  • বুকে চেপে ধরার মতো তীব্র ব্যথা।
  • ব্যথা বাম হাতে ছড়িয়ে পড়া।
  • শ্বাসকষ্ট, বমিভাব ও ঠাণ্ডা ঘাম।

. ব্রেস্ট ক্যানসার (Rare Case):

ক্যানসার সাধারণত ব্যথাহীন হয়। তবে নিচের লক্ষণগুলো দেখলে ডাক্তার দেখান:

  • স্তনে শক্ত অনড় চাকা।
  • নিপল উল্টে যাওয়া বা নিপল দিয়ে রক্ত/পানি পড়া।
  • স্তনের ত্বক কমলা লেবুর খোসার মতো হয়ে যাওয়া।

পরামর্শ: যদি ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হয় বা উপরের জটিল লক্ষণগুলো দেখা দেয়, তবে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

 

ব্রেস্ট ক্যান্সার কি ব্যথার কারণ হতে পারে?

এটি নারীদের সবচেয়ে বড় ভয়। “ব্যথা মানেই কি ক্যান্সার?”
উত্তর হলো: না।

  • ব্রেস্ট ক্যান্সারের প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণত কোনো ব্যথা থাকে না। ক্যানসারের চাকা বা টিউমারগুলো ব্যথাহীন হয়।
  • তবে, ইনফ্ল্যামেটরি ব্রেস্ট ক্যান্সার (Inflammatory Breast Cancer) নামে এক ধরণের বিরল ক্যান্সার আছে, যাতে স্তন লাল হয়ে যায়, ফুলে যায় এবং ব্যথা হয়।
  • যদি ব্যথার সাথে স্তনের চামড়া কুঁচকে যায়, নিপল ভেতরে ঢুকে যায় বা রক্ত বের হয়—তবে সেটি চিন্তার বিষয়। শুধু ব্যথা সাধারণত ক্যান্সারের লক্ষণ নয়।

অন্যান্য কারণ (ব্রেস্ট ফিডিং ও সংক্রমণ)

যারা বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়াচ্ছেন, তাদের ক্ষেত্রে ব্যথার ভিন্ন কারণ থাকতে পারে:

  • ম্যাসটাইটিস (Mastitis): স্তন টিস্যুর সংক্রমণ। এতে স্তন গরম হয়ে যায়, লাল হয়, তীব্র ব্যথা হয় এবং জ্বর আসে।
  • দুধ জমে যাওয়া (Engorgement): স্তনে অতিরিক্ত দুধ জমে গেলে তা পাথর হয়ে ব্যথা সৃষ্টি করে।

বাম ব্রেস্ট ব্যথার ঘরোয়া প্রতিকার ও সমাধান

বাম ব্রেস্টের ব্যথা যদি হার্টের কারণে না হয়, তবে ঘরোয়া কিছু নিয়ম মেনেই এটি কমানো সম্ভব।

১. সঠিক ব্রা নির্বাচন

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলো সঠিক মাপের এবং আরামদায়ক ব্রা পরা।

  • স্পোর্টস ব্রা ব্যবহার করতে পারেন, যা স্তনকে নড়াচড়া থেকে রক্ষা করে।
  • রাতে ঘুমানোর সময় ব্রা খুলে ঘুমান।
  • আন্ডারওয়্যার (লোহার তারযুক্ত) ব্রা এড়িয়ে চলুন।

২. গরম বা ঠান্ডা সেঁক

ব্যথার ধরণ অনুযায়ী সেঁক দিন।

  • ফোলা ভাব থাকলে: বরফ বা আইস প্যাক দিয়ে ১০ মিনিট সেঁক দিন।
  • পেশীর টান বা মাসিকের ব্যথা: গরম পানির ব্যাগ বা তোয়ালে গরম করে সেঁক দিলে আরাম পাওয়া যায়।

৩. খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন

  • ক্যাফেইন কমান: চা, কফি, চকোলেট এবং কোকাকোলা জাতীয় পানীয়তে ‘মিথাইলজ্যানথিন’ থাকে, যা স্তন ব্যথার উদ্রেক করতে পারে। এগুলো খাওয়া কমিয়ে দিলে ব্যথা কমে।
  • লবণ কম খান: মাসিকের আগে লবণ বেশি খেলে শরীরে পানি জমে স্তন ভারী হয়ে যায়। তাই এই সময় তরকারি ছাড়া বাড়তি লবণ খাবেন না।
  • ফ্যাট কমান: চর্বিযুক্ত খাবার কমালে শরীরে ইস্ট্রোজেন নিয়ন্ত্রণে থাকে।

৪. ইভিনিং প্রিমরোজ অয়েল (Evening Primrose Oil)

এটি একটি প্রাকৃতিক সাপ্লিমেন্ট যা ব্রেস্ট পেইন বা সাইক্লিক্যাল ম্যাস্টালজিয়া কমাতে ডাক্তাররা প্রায়ই পরামর্শ দেন। এতে গামা-লিনোলেনিক এসিড (GLA) থাকে যা হরমোন ব্যালেন্স করে।

৫. রিলাক্সেশন

স্ট্রেস বা মানসিক চাপ হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে ব্যথা বাড়াতে পারে। ইয়োগা বা মেডিটেশন করুন।

কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন?

অধিকাংশ ব্যথা নিজে থেকেই ভালো হয়ে যায়। তবে নিচের লক্ষণগুলো দেখলে দেরি করবেন না:

১. ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হলে: যদি ব্যথা ২-৩ সপ্তাহের বেশি থাকে এবং মাসিকের পরেও না কমে।
২. নির্দিষ্ট পয়েন্টে ব্যথা: যদি পুরো স্তনে ব্যথা না হয়ে, একটি নির্দিষ্ট জায়গায় তীব্র ব্যথা থাকে।
৩. চাকা বা লাম্প: ব্যথার সাথে যদি কোনো শক্ত চাকা অনুভব করেন।
৪. ইনফেকশনের লক্ষণ: স্তন লাল হয়ে গেলে, গরম হয়ে গেলে বা জ্বর আসলে।
৫. হার্টের লক্ষণ: ব্যথার সাথে যদি শ্বাসকষ্ট, ঘাম বা বুকে চাপ অনুভব করেন, তবে ব্রেস্টের কথা চিন্তা না করে দ্রুত ইমার্জেন্সি বিভাগে যান।

বাম ব্রেস্ট ব্যথার সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

বাম স্তনে ব্যথা কি হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ?

উত্তর: সাধারণত না। হার্ট অ্যাটাকের ব্যথা বুকের মাঝখানে বা হাড়ের নিচে হয় এবং চাপ ধরা ব্যথা হয়। স্তনের ব্যথা সাধারণত জ্বালাপোড়া বা খোঁচা লাগার মতো হয়। তবে সন্দেহ হলে ইসিজি (ECG) করানো বুদ্ধিমানের কাজ।

গ্যাস্ট্রিকের কারণে কি বাম স্তনে ব্যথা হতে পারে?

উত্তর: হ্যাঁ, পারে। পাকস্থলী বাম দিকে থাকায় গ্যাসের ব্যথা ওপরের দিকে উঠে স্তনের নিচে বা পাঁজরে অনুভূত হতে পারে। এন্টাসিড খেলে যদি ব্যথা কমে, তবে বুঝবেন এটি গ্যাসের ব্যথা।

ভিটামিন ই ক্যাপসুল কি ব্যথা কমায়?

উত্তর: হ্যাঁ। ভিটামিন ই এবং ইভিনিং প্রিমরোজ অয়েল স্তনের ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। তবে খাওয়ার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

উপসংহার:

বাম ব্রেস্টে ব্যথা মানেই বড় কোনো বিপদ নয়। ৯০ ভাগ ক্ষেত্রেই এটি সাধারণ হরমোনজনিত পরিবর্তন, পেশীর টান বা ভুল সাইজের ব্রা পরার কারণে হয়।

অহেতুক আতঙ্কিত হয়ে মানসিক শান্তি নষ্ট করবেন না। নিজের শরীরের যত্ন নিন, সঠিক মাপের অন্তর্বাস পরুন এবং পুষ্টিকর খাবার খান। তবে যদি ব্যথার সাথে চাকা থাকে বা ব্যথা তীব্র হয়, তবে অবহেলা না করে একজন ব্রেস্ট স্পেশালিস্ট বা সার্জনের পরামর্শ নিন।

সচেতনতাই সুস্বাস্থ্যের চাবিকাঠি। সুস্থ থাকুন, নিরাপদে থাকুন।

(বিঃদ্রঃ এই ব্লগটি সাধারণ স্বাস্থ্য সচেতনতা ও তথ্যের জন্য লেখা হয়েছে। এটি কখনোই সরাসরি ডাক্তারের পরামর্শের বিকল্প নয়। বুকে তীব্র ব্যথা বা হার্ট অ্যাটাকের সন্দেহ হলে তাৎক্ষণিক হাসপাতালে যোগাযোগ করুন।)

Scroll to Top