বুকের বাম পাশে ব্যথা কিসের লক্ষণ? কারণ, ঘরোয়া প্রতিকার ও চিকিৎসা
বুকের বাম দিকে সামান্য চিনচিনে ব্যথা বা অস্বস্তি হলেই আমাদের মনে যে ভয়টি সবার আগে কাজ করে তা হলো—”আমার কি হার্ট অ্যাটাক হচ্ছে?” একজন চিকিৎসক বা হেলথ কনসালটেন্ট হিসেবে আমি প্রায় প্রতিদিনই চেম্বারে এমন রোগীদের পাই, যারা বুকের বাম পাশে ব্যথা নিয়ে প্রচণ্ড আতঙ্কিত অবস্থায় আসেন। এই আতঙ্কের কারণে অনেকের রক্তচাপ বেড়ে যায় এবং তারা মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন।
কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানের সত্যটি হলো—সব সময় বুকের বাম পাশে ব্যথা মানেই হার্টের সমস্যা নয়। হার্ট ছাড়াও আমাদের বুকের বাম দিকে ফুসফুস, পাকস্থলী, পেশী, পাঁজরের হাড় এবং অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্নায়ু রয়েছে। এগুলোর যেকোনো একটিতে সমস্যা হলে আপনি বাম দিকে ব্যথা অনুভব করতে পারেন।
আজকের এই বিস্তারিত ব্লগে আমরা সম্পূর্ণ বিজ্ঞানসম্মতভাবে এবং সহজ বাংলায় জানব, বুকের বাম পাশে ব্যথা কেন হয়, কিভাবে বুঝবেন এটি গ্যাস্ট্রিকের ব্যথা নাকি হার্টের ব্যথা, কখন আপনার জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে যাওয়া উচিত এবং ঘরে বসে কীভাবে এর প্রাথমিক উপশম করা সম্ভব।
বুকের বাম দিকে কি কি অঙ্গ থাকে?
এই ব্যথাটি কেন হয়, তা বুঝতে হলে আগে জানতে হবে আমাদের বুকের বাম পাশে আসলে কি কি অঙ্গ রয়েছে।
আমাদের বুকের বাম পাশে মূলত হৃদপিণ্ড (Heart) বা হার্ট থাকে। এছাড়াও বাম ফুসফুস (Left Lung), পাকস্থলীর ওপরের অংশ (Stomach), প্লিহা (Spleen), অগ্ন্যাশয় (Pancreas), বুকের পাঁজরের হাড় (Ribs) এবং বেশ কিছু পেশী (Muscles) থাকে। এর যেকোনো একটি অঙ্গে প্রদাহ, সংক্রমণ বা সমস্যা হলে আপনার বুকের বাম পাশে ব্যথা হতে পারে।
ভয়ের আগে জানুন: এটি কি হার্ট অ্যাটাক? (Red Flags)
বুকের বাম পাশে ব্যথা হলে সবার আগে আমাদের নিশ্চিত হতে হবে যে এটি হার্ট অ্যাটাক কি না। কারণ হার্টের সমস্যায় এক মিনিট দেরি করাও মারাত্মক বিপদের কারণ হতে পারে।
হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণগুলো মিলিয়ে নিন:
১. ব্যথার ধরন: হার্টের ব্যথা সাধারণত নির্দিষ্ট কোনো বিন্দুতে বা সুই ফোটার মতো হয় না। মনে হবে বুকের ওপর ভারী কোনো পাথর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে বা কেউ বুক চেপে ধরেছে (Heavy pressure or squeezing)।
২. ব্যথা ছড়িয়ে পড়া: বুকের মাঝখান বা বাম পাশ থেকে ব্যথাটি ধীরে ধীরে বাম হাত, ঘাড়, চোয়াল (Jaw) বা পিঠের দিকে ছড়িয়ে পড়ে।
৩. অন্যান্য উপসর্গ: ব্যথার সাথে প্রচণ্ড ঘাম হওয়া (Cold sweat), শ্বাসকষ্ট হওয়া, বমি বমি ভাব, মাথা ঘোরা বা হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা তৈরি হওয়া।
৪. চাপ দিলে ব্যথা না বাড়া: হার্টের ব্যথায় বুকের ওপরে হাত দিয়ে চাপ দিলে ব্যথা বাড়ে না বা কমে না। এটি বুকের অনেক গভীরে অনুভূত হয়।
যদি আপনার বা আপনার পরিবারের কারও বুকের বাম পাশে ব্যথা এর সাথে ওপরের লক্ষণগুলো মিলে যায়, তবে এক মুহূর্ত দেরি না করে রোগীকে নিকটস্থ হাসপাতালের ইমার্জেন্সিতে বা সিসিইউ (CCU)-তে নিয়ে যান।
বুকের বাম পাশে ব্যথা হওয়ার ৮টি প্রধান কারণ (Causes of Left Chest Pain)
হার্ট অ্যাটাক ছাড়াও আরও অনেক সাধারণ ও জটিল কারণে এই ব্যথা হতে পারে। কারণগুলোকে আমরা প্রধান কয়েকটি ভাগে ভাগ করতে পারি:
১. হৃদরোগ বা হার্ট সংক্রান্ত কারণ (Cardiac Causes)
হার্ট অ্যাটাক ছাড়াও হার্টের অন্যান্য সমস্যায় বুকের বাম পাশে ব্যথা হতে পারে:
- অ্যানজাইনা (Angina): হৃৎপিণ্ডের পেশীতে যখন পর্যাপ্ত রক্ত ও অক্সিজেন পৌঁছাতে পারে না, তখন বুকে যে ব্যথা হয় তাকে অ্যানজাইনা বলে। একটু হাঁটাহাঁটি করলে, সিঁড়ি ভাঙলে বা ভারী কাজ করলে এই ব্যথা বাড়ে এবং বিশ্রাম নিলে কমে যায়।
- পেরিকার্ডাইটিস (Pericarditis): হার্টের বাইরের দিকে একটি পাতলা আবরণ থাকে যাকে পেরিকার্ডিয়াম বলে। এতে কোনো ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হলে প্রদাহ হয়। শ্বাস নিলে বা কাশির সময় এই ব্যথা তীব্র হয়।
২. গ্যাস্ট্রিক বা হজমের সমস্যা (Gastrointestinal Causes)
আমাদের দেশে বুকের বাম পাশে ব্যথা হওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ হলো গ্যাস্ট্রিক বা অ্যাসিডিটি।
- জিইআরডি (GERD) বা এসিড রিফ্লাক্স: পাকস্থলীর এসিড যখন খাদ্যনালী বেয়ে ওপরের দিকে উঠে আসে, তখন বুকের মাঝখানে বা বাম দিকে প্রচণ্ড জ্বালাপোড়া ও ব্যথা হয়। একে অনেকে হার্টবার্ন (Heartburn) বলেন।
- পাকস্থলীর আলসার (Peptic Ulcer): পাকস্থলীতে আলসার বা ঘা থাকলে খাবার খাওয়ার আগে বা পরে বুকের বাম দিকের নিচে তীব্র ব্যথা হতে পারে। গ্যাস্ট্রিকের কারণে হওয়া ব্যথা সাধারণত অ্যান্টাসিড (Antacid) খেলে কমে যায়।
৩. হাড় ও পেশীর সমস্যা (Musculoskeletal Causes)
অনেক সময় ভারী কাজ করার ফলে হাড় বা পেশীতে টান লেগে বুকের বাম পাশে ব্যথা হয়।
- কস্টোকনড্রাইটিস (Costochondritis): বুকের মাঝখানের হাড়ের (Sternum) সাথে পাঁজরের হাড়গুলো যে তরুণাস্থি বা কার্টিলেজ দিয়ে যুক্ত থাকে, সেখানে প্রদাহ হলে তীব্র ব্যথা হয়। বুকে চাপ দিলে বা জোরে শ্বাস নিলে এই ব্যথা বাড়ে। এটি খুবই সাধারণ একটি সমস্যা এবং এতে ভয়ের কিছু নেই।
- পেশীতে টান (Muscle Strain): জিমে ভারী ওজন তুললে, ভুল ভঙ্গিতে ঘুমালে বা অতিরিক্ত কাশির কারণে বুকের বাম পাশের পেশীতে টান লেগে ব্যথা হতে পারে।
৪. ফুসফুসের সমস্যা (Respiratory Causes)
যেহেতু বাম ফুসফুস বুকের বাম দিকে থাকে, তাই ফুসফুসের কারণেও ব্যথা হতে পারে।
- প্লুরিসি (Pleurisy): ফুসফুসের বাইরের আবরণে (Pleura) প্রদাহ হলে শ্বাস নেওয়ার সময় বা কাশির সময় বুকের বাম দিকে তীক্ষ্ণ ব্যথা হয়।
- নিউমোনিয়া (Pneumonia): বাম ফুসফুসে নিউমোনিয়া বা ইনফেকশন হলে জ্বর, কাশি এবং শ্বাসকষ্টের পাশাপাশি বুকের বাম পাশে ব্যথা হতে পারে।
৫. মানসিক চাপ বা প্যানিক অ্যাটাক (Psychological Causes)
শুনতে অবাক লাগলেও, অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা প্যানিক অ্যাটাকের কারণে হুবহু হার্ট অ্যাটাকের মতো বুকের বাম পাশে ব্যথা হতে পারে।
- লক্ষণ: হঠাৎ প্রচণ্ড ভয় পাওয়া, বুক ধড়ফড় করা, শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া, হাত-পা কাঁপা এবং মনে হওয়া যে এই বুঝি মৃত্যু হবে। ইসিজি (ECG) করলে দেখা যায় হার্ট সম্পূর্ণ সুস্থ আছে। এটি মূলত মানসিক উদ্বেগের কারণে হয়।
৬. প্লিহা বা স্প্লিনের সমস্যা (Spleen Issues)
আমাদের বুকের বাম দিকের পাঁজরের ঠিক নিচেই প্লিহা বা স্প্লিন থাকে।
- কেন ব্যথা হয়: কোনো কারণে প্লিহা বড় হয়ে গেলে (Enlarged Spleen) বা এতে কোনো আঘাত লাগলে বুকের বাম পাশের নিচের দিকে তীব্র ব্যথা হতে পারে। অনেক সময় এই ব্যথা বাম কাঁধ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে।
৭. অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহ বা প্যানক্রিয়াটাইটিস (Pancreatitis)
অগ্ন্যাশয় বা প্যানক্রিয়াস আমাদের পেটের ওপরের অংশে থাকে, যা হজমে সাহায্য করে।
- কেন ব্যথা হয়: এতে প্রদাহ বা ইনফেকশন হলে তীব্র ব্যথা শুরু হয়। এই ব্যথা সাধারণত পেটের ওপরের অংশে শুরু হয়ে অনেক সময় ওপরের দিকে উঠে বুকের বাম পাশে এবং পিঠের দিকে ছড়িয়ে পড়ে। গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ খাওয়ার পরেও যদি ব্যথা না কমে এবং সাথে বমি বমি ভাব থাকে, তবে এটি প্যানক্রিয়াসের সমস্যা হতে পারে।
৮. স্নায়ুর সমস্যা বা শিঙ্গলস (Shingles/Nerve Pain)
এটি এক ধরণের ভাইরাল ইনফেকশন (যা জলবসন্ত বা চিকেনপক্সের ভাইরাসের কারণে হয়)।
কেন ব্যথা হয়: এই ভাইরাসের কারণে বুকের বাম দিকের স্নায়ুতে (Nerves) প্রদাহ হলে প্রচণ্ড জ্বালাপোড়া ও তীক্ষ্ণ ব্যথা হয়। এটি হার্ট বা ফুসফুসের ব্যথা নয়, বরং চামড়া ও স্নায়ুর ব্যথা। ব্যথার কয়েকদিন পর বুকের ওই নির্দিষ্ট স্থানে লাল র্যাশ বা ফোসকা উঠতে দেখা যায়।
রোগ নির্ণয়: চিকিৎসক কিভাবে পরীক্ষা করেন? (Diagnosis)
আপনি যখন এই ব্যথা নিয়ে চিকিৎসকের কাছে যাবেন, তখন তিনি আপনার লক্ষণগুলো শুনে এবং কিছু শারীরিক পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করবেন আপনার বুকের বাম পাশে ব্যথা কিসের লক্ষণ। সাধারণত নিচের পরীক্ষাগুলো করা হয়:
১. ইসিজি (ECG/EKG): হার্টের ইলেকট্রিক্যাল কার্যক্রম ঠিক আছে কি না এবং হার্ট অ্যাটাক হয়েছে কি না, তা দেখার প্রাথমিক পরীক্ষা।
২. ট্রোপোনিন আই (Troponin-I): এটি একটি রক্ত পরীক্ষা। হার্ট অ্যাটাক হলে রক্তে এই কেমিক্যালটির মাত্রা বেড়ে যায়।
৩. বুকের এক্স-রে (Chest X-ray): ফুসফুসে ইনফেকশন, নিউমোনিয়া বা পাঁজরের হাড়ের অবস্থা দেখার জন্য।
৪. এন্ডোস্কোপি (Endoscopy): যদি চিকিৎসক সন্দেহ করেন যে আপনার গ্যাস্ট্রিক বা আলসারের কারণে ব্যথা হচ্ছে, তবে পাকস্থলীর অবস্থা দেখার জন্য এই পরীক্ষাটি করতে পারেন।
ঘরোয়া উপায়ে বুকের বাম পাশে ব্যথা কমানোর উপায় (Home Remedies)
যদি চিকিৎসক নিশ্চিত করেন যে আপনার হার্টের কোনো সমস্যা নেই, বরং গ্যাস্ট্রিক, পেশীর টান বা মানসিক চাপের কারণে বুকের বাম পাশে ব্যথা হচ্ছে, তবে আপনি ঘরে বসেই কিছু নিয়ম মেনে এই ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে পারেন:
- গ্যাস্ট্রিকের ব্যথা হলে: এক গ্লাস কুসুম গরম পানি পান করুন। তৈলাক্ত ও মসলাযুক্ত খাবার সাময়িকভাবে বন্ধ রাখুন। ভরা পেটে কখনো সাথে সাথে শুয়ে পড়বেন না, অন্তত ২ ঘণ্টা পর বিছানায় যাবেন। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যান্টাসিড বা ওমিপ্রাজল জাতীয় ওষুধ সেবন করতে পারেন।
- পেশীর টান বা কস্টোকনড্রাইটিস হলে: ব্যথার জায়গায় গরম পানির সেঁক (Hot Compress) দিন। ভারী কাজ বা অতিরিক্ত ব্যায়াম থেকে কয়েকদিন বিরত থাকুন। ব্যথা বেশি হলে ভরা পেটে একটি প্যারাসিটামল খেতে পারেন।
- মানসিক চাপের কারণে হলে: দীর্ঘশ্বাস নিন (Deep breathing exercises)। চোখ বন্ধ করে ধীরে ধীরে শ্বাস নিন এবং ছাড়ুন। মেডিটেশন বা যোগব্যায়াম মানসিক চাপ কমাতে জাদুর মতো কাজ করে।
- সঠিক ভঙ্গিতে ঘুমানো: রাতে ঘুমানোর সময় মাথা ও পিঠের নিচে একটি অতিরিক্ত বালিশ দিয়ে একটু উঁচু হয়ে ঘুমালে এসিড রিফ্লাক্স বা গ্যাস্ট্রিকের ব্যথা অনেক কমে যায়।
প্রতিরোধ: কিভাবে বুক ব্যথা থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখবেন? (Prevention)
“প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম।” আপনার দৈনন্দিন জীবনে কিছু স্বাস্থ্যকর পরিবর্তন আনলে আপনি হার্ট ও গ্যাস্ট্রিকজনিত বুকের বাম পাশে ব্যথা থেকে নিজেকে আজীবন সুরক্ষিত রাখতে পারবেন।
১. স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস: প্রচুর পরিমাণে তাজা শাকসবজি ও ফলমূল খান। লাল মাংস (গরু বা খাসির মাংস), অতিরিক্ত তেল, চর্বি ও ফাস্টফুড এড়িয়ে চলুন। এগুলো রক্তে কোলেস্টেরল বাড়িয়ে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি তৈরি করে।
২. নিয়মিত ব্যায়াম: প্রতিদিন অন্তত ৩০ থেকে ৪০ মিনিট হাঁটার অভ্যাস করুন। এটি হার্টকে সুস্থ রাখে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
৩. ধূমপান ও মদ্যপান বর্জন: ধূমপান ফুসফুস এবং হার্টের সবচেয়ে বড় শত্রু। এটি রক্তনালীকে সংকুচিত করে দেয়। সুস্থ থাকতে চাইলে আজই ধূমপান ত্যাগ করুন।
৪. ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ: যাদের ডায়াবেটিস বা হাই ব্লাড প্রেসার আছে, তাদের হার্টের সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। তাই নিয়মিত ওষুধ খেয়ে এবং নিয়ম মেনে এগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
৫. স্ট্রেস ফ্রি থাকুন: প্রতিদিনের কাজের চাপে নিজেকে হারিয়ে ফেলবেন না। নিজের জন্য সময় বের করুন, পর্যাপ্ত ঘুমান (৭-৮ ঘণ্টা) এবং দুশ্চিন্তা থেকে দূরে থাকুন।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
গ্যাসের কারণে বুকের বাম পাশে ব্যথা হলে কী করব?
শ্বাস নিতে গেলে বা কাশি দিলে বুকের বাম পাশে ব্যথা হয় কেন?
অল্প বয়সীদের কি হার্ট অ্যাটাক হতে পারে?
উপসংহার:
বুক ব্যথা কখনোই অবহেলা করার মতো কোনো বিষয় নয়। আমরা জানলাম যে, বুকের বাম পাশে ব্যথা মানেই সবসময় হার্টের সমস্যা নয়। এটি গ্যাস্ট্রিক, পেশীর ব্যথা বা সাধারণ মানসিক চাপ থেকেও হতে পারে। তবে যেহেতু হার্টের সমস্যার ঝুঁকি সবসময়ই থাকে, তাই যেকোনো নতুন বা তীব্র ব্যথায় নিজে থেকে ডাক্তারি না করে বা ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনে না খেয়ে, দ্রুত একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
আপনার স্বাস্থ্য আপনার সবচেয়ে বড় সম্পদ। সঠিক জ্ঞান, সচেতনতা এবং সময়মতো চিকিৎসায় বড় ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।
তথ্যসূত্র (References):
- American Heart Association (AHA): Warning Signs of a Heart Attack.
- Mayo Clinic: Chest Pain – Symptoms and causes.
- World Health Organization (WHO): Cardiovascular diseases (CVDs) fact sheet.
- National Health Service (NHS, UK): Chest pain guidelines and non-cardiac chest pain management.
বিঃদ্রঃ এই ব্লগে প্রদত্ত তথ্যগুলো সম্পূর্ণ শিক্ষামূলক এবং সাধারণ স্বাস্থ্য সচেতনতার উদ্দেশ্যে লেখা হয়েছে। এটিকে কোনোভাবেই একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সরাসরি চিকিৎসা বা ডাক্তারি পরামর্শের বিকল্প হিসেবে গ্রহণ করা উচিত নয়। বুকের বাম পাশে ব্যথা তীব্র হলে বা ঘাম ও শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালের ইমার্জেন্সিতে যোগাযোগ করুন।


