ব্রেস্ট ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণ: অবহেলা নয়, সচেতনতাই বাঁচার উপায়
“ক্যান্সার”—শব্দটি শুনলেই আমাদের মনে এক অজানা আতঙ্ক ভর করে। আর তা যদি হয় ব্রেস্ট ক্যান্সার বা স্তন ক্যান্সার, তবে নারীদের দুশ্চিন্তার শেষ থাকে না। বিশ্বজুড়ে নারীদের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ এই ব্রেস্ট ক্যান্সার। পরিসংখ্যান বলছে, প্রতি ৮ জন নারীর মধ্যে ১ জনের জীবনে কোনো না কোনো সময় ব্রেস্ট ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
কিন্তু ভয়ের এই পরিসংখ্যানের আড়ালে একটি আশার আলোও আছে। আর তা হলো—“প্রাথমিক শনাক্তকরণ”। ব্রেস্ট ক্যান্সার যদি একদম প্রাথমিক পর্যায়ে (Stage 0 বা Stage 1) ধরা পড়ে, তবে সঠিক চিকিৎসায় রোগী পুরোপুরি সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন।
সমস্যা হলো, আমাদের মা-বোনেরা লজ্জায় কাউকে কিছু বলেন না, অথবা সাধারণ কোনো পরিবর্তনকে গুরুত্ব দেন না। যখন ব্যথা শুরু হয় বা ঘা হয়ে যায়, তখন ডাক্তারের কাছে আসেন—ততক্ষণে হয়তো অনেক দেরি হয়ে গেছে।
ব্রেস্ট ক্যান্সারের সেইসব গোপন ও প্রাথমিক লক্ষণ, যা জানা থাকলে আপনি নিজেকে এবং আপনার প্রিয়জনকে এই মরণব্যাধি থেকে রক্ষা করতে পারবেন। আজকের ব্লগে জানাব আমরা |
ব্রেস্ট ক্যান্সার কি?
আমাদের স্তনের ভেতরে থাকে দুধ তৈরির গ্রন্থি (lobules), দুধ বহন করার নালী (ducts) এবং চর্বি (fat tissue)। এই কোষগুলোর যেকোনো একটি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে এবং নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বিভাজিত হতে থাকলে সেটিই ক্যান্সার।
এই ক্যান্সার যদি duct-এর ভেতরে থাকে, তাকে বলে Ductal Carcinoma, আর lobule থেকে শুরু হলে Lobular Carcinoma।
ব্রেস্ট ক্যান্সার কেন হয়?
লক্ষণ জানার আগে সংক্ষেপে জানা দরকার এটি কেন হয়। আমাদের শরীর অসংখ্য ছোট ছোট কোষ দিয়ে তৈরি। এই কোষগুলো একটি নির্দিষ্ট নিয়মে বিভাজিত হয় এবং মারা যায়। কিন্তু স্তনের কোনো কোষ যদি অস্বাভাবিক ও অনিয়ন্ত্রিতভাবে বাড়তে শুরু করে এবং পিণ্ড বা চাকার আকার ধারণ করে, তবে তাকে টিউমার বলে। এই টিউমার যখন শরীরের সুস্থ কোষগুলোকে আক্রমণ করে এবং ছড়িয়ে পড়ে, তখন তাকে আমরা ব্রেস্ট ক্যান্সার বলি।
এর নির্দিষ্ট কোনো একক কারণ নেই। তবে জিনগত ত্রুটি (Genetics), হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং পরিবেশগত কারণে এটি হতে পারে।
কেন প্রাথমিক লক্ষণ জানা জরুরি?
কারণ—
১. প্রথম দিকে ধরা পড়লে চিকিৎসা সফলতার হার ৯০% পর্যন্ত
স্টেজ ১ ব্রেস্ট ক্যান্সার হলে সঠিক চিকিৎসায় রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।
২. কেমো বা বড় ধরনের অস্ত্রোপচারের দরকার না-ও হতে পারে
শুধু ছোট সার্জারি বা ওষুধেই অনেক সময় রোগী ভালো হয়ে যান।
৩. রোগ প্রতিদিন এগিয়ে যায়
বেশিরভাগ নারী দেরি করেন, কারণ তারা পরিবর্তনগুলোকে গুরুত্ব দেন না।
ব্রেস্ট ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণ গুলো জানা জরুরি:
অধিকাংশ মানুষ মনে করেন, স্তনে ব্যথা হওয়াই ক্যান্সারের লক্ষণ। এটি একটি বড় ভুল ধারণা। প্রাথমিক পর্যায়ে ব্রেস্ট ক্যান্সারে সাধারণত কোনো ব্যথা থাকে না। তাই নিচের লক্ষণগুলোর দিকে খুব ভালো করে নজর দিন:
১. স্তনে বা বগলে চাকা (Lump) অনুভব করা
এটি ব্রেস্ট ক্যান্সারের সবচেয়ে সাধারণ এবং প্রথম লক্ষণ।
- কীভাবে বুঝবেন: গোসলের সময় বা কাপড় পরার সময় যদি স্তনের ভেতরে শক্ত কোনো চাকা, মার্বেল বা মটরশুঁটির দানার মতো কিছু অনুভব করেন।
- বৈশিষ্ট্য: ক্যান্সারের চাকা সাধারণত খুব শক্ত হয়, পাথরের মতো লাগে এবং এক জায়গায় স্থির থাকে (নড়াচড়া করে না)। তবে নরম চাকাও ক্যান্সার হতে পারে।
- বগলের নিচে: শুধু স্তনে নয়, বগলের নিচে কোনো চাকা বা ফোলা অংশও ব্রেস্ট ক্যান্সারের লক্ষণ হতে পারে (লিম্ফ নোড ফুলে যাওয়া)।
২. স্তনের আকার বা আকৃতি পরিবর্তন
- বিবরণ: মানুষের দুই স্তন কখনোই ১০০% সমান হয় না, সামান্য ছোট-বড় থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু হঠাৎ করে যদি দেখেন একপাশের স্তন অন্যপাশের চেয়ে অস্বাভাবিক বড় হয়ে গেছে, ফুলে গেছে বা ঝুলে গেছে—তবে এটি চিন্তার বিষয়।
৩. ত্বকের পরিবর্তন (Skin Changes)
স্তনের চামড়ার দিকে ভালো করে লক্ষ্য করুন। ক্যান্সারের কোষগুলো ত্বকের নিচের লিম্ফ নালিগুলো ব্লক করে দিতে পারে।
- লক্ষণ:
- স্তনের চামড়া লালচে বা বেগুনি হয়ে যাওয়া।
- চামড়া কুঁচকে যাওয়া।
- কমলার খোসার মতো ত্বক (Peau d’orange): স্তনের চামড়ায় ছোট ছোট গর্ত বা ছিদ্র দেখা দেওয়া, যা দেখতে ঠিক কমলার খোসার মতো লাগে। এটি ইনফ্ল্যামেটরি ব্রেস্ট ক্যান্সারের লক্ষণ।
৪. নিপলের পরিবর্তন (Nipple Retraction)
- বিবরণ: স্বাভাবিক অবস্থায় নিপল বা স্তনবৃন্ত বাইরের দিকে থাকে। কিন্তু যদি দেখেন নিপল হঠাৎ করে ভেতরের দিকে ঢুকে গেছে বা দেবে গেছে, তবে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিন। এছাড়াও নিপলের দিক পরিবর্তন হওয়া (একদিকে বেঁকে যাওয়া) একটি লক্ষণ।
৫. নিপল দিয়ে অস্বাভাবিক নিঃসরণ (Nipple Discharge)
আপনি যদি বাচ্চাকে বুকের দুধ না খাওয়ান (Non-lactating), তবে নিপল দিয়ে কোনো তরল বের হওয়া স্বাভাবিক নয়।
- সতর্কতা: যদি নিপল দিয়ে নিজে থেকেই (চাপ দেওয়া ছাড়া) কোনো তরল বের হয় এবং তা যদি রক্ত মিশ্রিত, পুঁজের মতো বা স্বচ্ছ পানির মতো হয়, তবে এটি ক্যান্সারের শক্তিশালী লক্ষণ।
৬. স্তনে টোল পড়া বা গর্ত হওয়া (Dimpling)
- বিবরণ: আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে হাত ওপরে তুললে যদি দেখেন স্তনের কোনো এক জায়গায় টোল পড়ছে বা গর্ত হয়ে ভেতরের দিকে ডেবে যাচ্ছে, তবে বুঝতে হবে ভেতরের কোনো টিউমার চামড়াকে টেনে ধরেছে।
৭. স্তন বা নিপলে ঘা (Ulceration)
- বিবরণ: স্তনবৃন্ত বা তার আশেপাশের কালো অংশে (Areola) যদি কোনো ঘা হয়, চামড়া উঠতে থাকে বা একজিমা জাতীয় চুলকানি হয় এবং তা মলম লাগানোর পরেও না সারে—তবে এটি প্যাজেট ডিজিজ (Paget’s Disease) নামক এক ধরণের ব্রেস্ট ক্যান্সারের লক্ষণ।
৮. অবিরাম ব্যথা বা অস্বস্তি
- বিবরণ: আগেই বলেছি, ক্যান্সারের চাকা সাধারণত ব্যথাহীন হয়। তবে কিছু ক্ষেত্রে স্তনে অবিরাম অস্বস্তি, ভারী ভাব বা চিনচিনে ব্যথা হতে পারে যা মাসিকের ব্যথার মতো নয় এবং সহজে কমে না।
৯. দৃশ্যমান শিরা (Visible Veins)
- বিবরণ: স্তনের ওপরের শিরাগুলো যদি হঠাৎ করে খুব স্পষ্ট বা বড় হয়ে দেখা দেয়, তবে এটি টিউমারের কারণে রক্ত সঞ্চালন বেড়ে যাওয়ার ইঙ্গিত হতে পারে।
১০. কলার বোন বা গলার কাছে ফোলা
- বিবরণ: ব্রেস্ট ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়লে কলার বোন (Clavicle) বা গলার হাড়ের কাছে ছোট ছোট চাকা বা গুটি দেখা দিতে পারে।
ব্যথা মানেই কি ক্যান্সার? (Pain vs Cancer)
আমাদের কাছে অনেক রোগী আসেন যারা স্তনে ব্যথা হলেই মনে করেন ক্যান্সার হয়েছে। ডাক্তার হিসেবে আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই:
- স্তনে ব্যথার প্রধান কারণ সাধারণত হরমোনের পরিবর্তন, মাসিক, সাধারণ ইনফেকশন বা ফাইব্রোসিস্টিক ডিজিজ।
- ৮০-৯০ শতাংশ ব্রেস্ট লাম্প বা চাকা বিনাইন (Benign) বা সাধারণ টিউমার, যা ক্যান্সার নয়।
- তবে ব্যথা নেই বলে অবহেলা করবেন না। ব্যথাহীন শক্ত চাকাই ক্যান্সারের জন্য বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।
কারা বেশি ঝুঁকিতে? (Risk Factors)
কেন কারো ক্যান্সার হয় আর কারো হয় না, তা নিশ্চিত বলা কঠিন। তবে কিছু বিষয় বা ফ্যাক্টর ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়:
১. লিঙ্গ ও বয়স: নারী হওয়াটাই সবচেয়ে বড় ঝুঁকি। বয়স বাড়ার সাথে সাথে (বিশেষ করে ৪০ বা ৫০-এর পর) ঝুঁকি বাড়ে।
২. বংশগত (Genetics): মা, খালা, বোন বা নানি-দাদির ব্রেস্ট ক্যান্সার বা ওভারিয়ান ক্যান্সার থাকলে ঝুঁকি অনেক বেশি। (BRCA1 বা BRCA2 জিনের মিউটেশন)।
৩. হরমোন: যাদের মাসিক খুব অল্প বয়সে (১২ বছরের আগে) শুরু হয়েছে এবং দেরিতে (৫৫ বছরের পর) বন্ধ হয়েছে, তারা দীর্ঘ সময় ইস্ট্রোজেন হরমোনের প্রভাবে থাকেন বলে ঝুঁকি বেশি।
৪. বিয়ে ও সন্তান: যারা কখনো বিয়ে করেননি, ৩০ বছরের পর প্রথম সন্তান নিয়েছেন অথবা সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়াননি।
৫. লাইফস্টাইল: অতিরিক্ত ওজন, ধূমপান, মদ্যপান এবং চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়া।
৬. হরমোন থেরাপি: মেনোপজের পর দীর্ঘমেয়াদী হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি (HRT) নেওয়া।
ঘরে বসে ব্রেস্ট ক্যান্সার পরীক্ষা (Self-Breast Examination - SBE)
প্রতিটি নারীর উচিত ২০ বছর বয়সের পর থেকে প্রতি মাসে একবার নিজে নিজে নিজের স্তন পরীক্ষা করা। এটি মাত্র ৫ মিনিটের কাজ, কিন্তু এটি আপনার জীবন বাঁচাতে পারে।
সঠিক সময়: মাসিকের ৫-৭ দিন পর (যখন স্তন নরম ও কম ব্যথাযুক্ত থাকে)। যাদের মাসিক বন্ধ হয়ে গেছে (মেনোপজ), তারা মাসের যেকোনো একটি নির্দিষ্ট তারিখ (যেমন প্রতি মাসের ১ তারিখ) বেছে নিতে পারেন।
ধাপ ১: দেখা (Look)
আয়নার সামনে কোমরের ওপরের কাপড় খুলে দাঁড়ান।
- সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে দেখুন দুই স্তনের আকারে কোনো পরিবর্তন, চামড়ায় কুঁচকানো ভাব বা নিপল ভেতরে ঢুকে গেছে কি না।
- এরপর দুই হাত মাথার ওপরে তুলুন এবং একই বিষয়গুলো লক্ষ্য করুন।
- শেষে কোমরে হাত দিয়ে বুকে চাপ দিন এবং পরিবর্তনগুলো খুঁজুন।
ধাপ ২: স্পর্শ করা বা অনুভব করা (Feel)
এটি গোসলের সময় বা বিছানায় শুয়ে করা যায়।
- ডান হাত মাথার পেছনে রাখুন। বাম হাতের তিন আঙুল (তর্জনী, মধ্যমা ও অনামিকা) দিয়ে ডান স্তন আলতো করে চেপে চেপে পরীক্ষা করুন।
- বগলের নিচ থেকে শুরু করে পুরো স্তন চক্রাকারে বা ওপর-নিচ করে পরীক্ষা করুন। দেখুন কোনো শক্ত চাকা বা পিণ্ড হাতে লাগে কি না।
- একইভাবে বাম স্তন পরীক্ষা করুন।
- সবশেষে নিপল আলতো করে চিপে দেখুন কোনো তরল বের হয় কি না।
লক্ষণ দেখা দিলে কী করবেন? (Diagnosis)
যদি আপনি কোনো চাকা বা অস্বাভাবিকতা খুঁজে পান, তবে প্যানিক করবেন না বা ভয় পাবেন না। মনে রাখবেন, অধিকাংশ চাকা ক্যান্সার নয়। কিন্তু নিশ্চিত হওয়ার জন্য দ্রুত একজন ব্রেস্ট স্পেশালিস্ট বা সার্জন-এর কাছে যান।
ডাক্তার সাধারণত নিচের পরীক্ষাগুলো দিতে পারেন:
১. ম্যামোগ্রাম (Mammogram): এটি এক ধরণের এক্স-রে। ৪০ বছরের বেশি বয়সী নারীদের জন্য এটি গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড টেস্ট।
২. আল্ট্রাসোনোগ্রাম (USG): ৩৫ বছরের কম বয়সী নারীদের জন্য এটি বেশি উপযোগী। এতে বোঝা যায় চাকাটি টিউমার নাকি পানিভর্তি সিস্ট।
৩. FNAC বা বায়োপসি: এটিই নিশ্চিত পরীক্ষা। টিউমার থেকে সুই দিয়ে সামান্য কোষ বা টিস্যু নিয়ে ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা হয় এটি ক্যান্সার কি না। বায়োপসি করলে ক্যান্সার ছড়ায় না—এটি একটি ভুল ধারণা।
ব্রেস্ট ক্যান্সার প্রতিরোধে করণীয়:
যদিও ক্যান্সার পুরোপুরি প্রতিরোধ করা যায় না, তবে সচেতন থাকলে ঝুঁকি অনেক কমানো সম্ভব:
১. ওজন নিয়ন্ত্রণ: অতিরিক্ত ওজন, বিশেষ করে মেনোপজের পর, ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
২. বুকের দুধ খাওয়ানো: সন্তানকে কমপক্ষে ৬ মাস থেকে ২ বছর বুকের দুধ খাওয়ালে মায়ের ব্রেস্ট ক্যান্সারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে।
৩. সুষম খাবার: প্রচুর রঙিন শাকসবজি, ফলমূল (অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যুক্ত) এবং ফাইবার জাতীয় খাবার খান। লাল মাংস ও প্রসেসড ফুড এড়িয়ে চলুন।
৪. ধূমপান বর্জন: ধূমপান ও মদ্যপান থেকে বিরত থাকুন।
৫. নিয়মিত ব্যায়াম: সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট হাঁটুন বা ব্যায়াম করুন।
৬. স্ক্রিনিং: ৪০ বছর বয়সের পর সুস্থ থাকলেও প্রতি ১-২ বছর অন্তর ম্যামোগ্রাম করান।
ব্রেস্ট ক্যান্সার নিয়ে সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
পুরুষদের কি ব্রেস্ট ক্যান্সার হতে পারে?
কালো ব্রা বা ডিওডোরেন্ট ব্যবহার করলে কি ক্যান্সার হয়?
মোবাইল ফোন বুকে রাখলে কি ক্যান্সার হয়?
ব্রেস্ট ক্যান্সার কি ছোঁয়াচে?
কখন ডাক্তার দেখাবেন?
যদি—
✔ স্তনে গাঁট
✔ বগলে গাঁট
✔ নিপল থেকে রক্ত
✔ ত্বকের অস্বাভাবিক পরিবর্তন
✔ আকার পরিবর্তন
✔ ২ সপ্তাহ পরেও উন্নতি না হওয়াএসবের যেকোনো একটি থাকলে দেরি না করে বিশেষজ্ঞ (Breast Surgeon বা Oncologist) দেখানো জরুরি।
উপসংহার:
প্রিয় মা ও বোনেরা, ব্রেস্ট ক্যান্সার মানেই মৃত্যু নয়। ভয়ের সবচেয়ে বড় কারণ হলো “দেরি করা”। আমাদের দেশের নারীরা পরিবারের সবার খেয়াল রাখেন, কিন্তু নিজের শরীরের যত্ন নিতে অবহেলা করেন।
আপনার শরীর আপনার সম্পদ। মাসে মাত্র ৫ মিনিট সময় দিন নিজের শরীরকে পরীক্ষা করতে। কোনো চাকা বা পরিবর্তন নজরে এলে লজ্জা না পেয়ে স্বামী বা পরিবারের সাথে কথা বলুন এবং দ্রুত ডাক্তারের কাছে যান। প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে ব্রেস্ট ক্যান্সার শতভাগ নিরাময়যোগ্য এবং রোগী দীর্ঘ সুস্থ জীবন লাভ করতে পারেন।
সচেতন হোন, সুস্থ থাকুন। আপনার সুস্থতাই আপনার পরিবারের হাসি ধরে রাখবে।
(বিঃদ্রঃ এই ব্লগটি সাধারণ স্বাস্থ্য সচেতনতা ও তথ্যের জন্য লেখা হয়েছে। এটি কখনোই সরাসরি ডাক্তারের পরামর্শের বিকল্প নয়। কোনো সমস্যা মনে হলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন।)


