ব্রেস্ট টিউমার চেনার উপায়

ব্রেস্ট টিউমার চেনার উপায়: লক্ষণ, ঘরোয়া পরীক্ষা ও চিকিৎসক

নারীর শরীরে ব্রেস্ট বা স্তন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। কিন্তু বর্তমানে নারীদের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ব্রেস্ট ক্যানসার। পরিসংখ্যান বলছে, প্রতি ৮ জন নারীর মধ্যে ১ জনের ব্রেস্ট ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এই ভয়ের কারণেই স্তনে কোনো ছোট চাকা বা টিউমার অনুভব করলেই মায়েরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।

কিন্তু সুখবর হলো, স্তনের সব চাকাই ক্যানসার নয়। প্রায় ৮০-৯০ শতাংশ ব্রেস্ট লাম্প বা টিউমারই সাধারণ বা ‘বিনাইন’ (Benign), যা ক্যানসার নয় এবং প্রাণঘাতীও নয়। তবে সমস্যা হলো, সাধারণ মানুষ বুঝতে পারেন না কোনটি সাধারণ টিউমার আর কোনটি ক্যানসার।

আজ আমি আপনাদের সেই ভয় দূর করতে এসেছি। আজকের ব্লগে আমরা বিস্তারিত জানব—ব্রেস্ট টিউমার আসলে কি, ঘরে বসে নিজে নিজে এটি চেনার উপায় কি, ক্যানসারের লক্ষণগুলো কেমন হয় এবং টিউমার ধরা পড়লে আপনার করণীয় কি।

ব্রেস্ট টিউমার কি? (What is a Breast Tumor?)

সহজ কথায়, শরীরের কোনো অংশের কোষ যখন অনিয়ন্ত্রিতভাবে বেড়ে গিয়ে একটি পিণ্ড বা চাকার মতো তৈরি করে, তাকে টিউমার বলে। স্তনে যখন এমন কোনো চাকা বা লাম্প তৈরি হয়, তখন তাকে আমরা ব্রেস্ট টিউমার বলি।

ব্রেস্ট টিউমার মূলত দুই ধরণের হয়। বিস্তারিত নিচে আলোচনা করা হলো:

১. বিনাইন টিউমার (Benign Tumor): নিরীহ বা সাধারণ টিউমার এগুলো সাধারণ টিউমার, যা ক্যানসার নয়।

  • বৈশিষ্ট্য:

    • সাধারণত জীবনের ঝুঁকি থাকে না।

    • শরীরের অন্য কোথাও ছড়ায় না এবং সাধারণত ভয়ের কোনো কারণ নেই।

    • অনেক সময় নিজে থেকেই ছোট বা অদৃশ্য হয়ে যায়।

    • এর চিকিৎসা বেশ সহজ।

  • উদাহরণ: ফাইব্রএডিনোমা (Fibroadenoma), সিস্ট (Cyst) বা ব্রেস্ট অ্যাবসেস।

২. ম্যালিগন্যান্ট টিউমার (Malignant Tumor): ক্যানসারজনিত টিউমার এটিই হলো ক্যানসারাস টিউমার বা ব্রেস্ট ক্যানসার।

  • বৈশিষ্ট্য:

    • এর কোষগুলি খুব দ্রুত বাড়তে থাকে।

    • এটি শরীরের অন্যান্য অঙ্গে ছড়িয়ে পড়তে পারে (Metastasis)।

    • এটি জীবনঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

    • এর খুব দ্রুত এবং উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন।

  • আশার কথা: তাড়াতাড়ি চিকিৎসা শুরু করলে এই ক্যানসার থেকে বাঁচার হার অনেক বেশি।

শেষ কথা ও সতর্কতা: সুতরাং—স্তনে চাকা বা গাঁট মানেই ক্যান্সার নয়। তবে, কোনো গাঁট বা চাকা অনুভব করলে তাকে অবহেলা করলে বিপদও হতে পারে। তাই ভয়ে বসে না থেকে সঠিক সময়ে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। সচেতনতা খুব জরুরি।

ব্রেস্ট টিউমার চেনার উপায় গুলো হলো:

অধিকাংশ ক্ষেত্রে টিউমার বা ক্যান্সার প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো ব্যথা দেয় না। তাই অনেকে বুঝতে পারেন না। নিচের লক্ষণগুলো মিলিয়ে দেখুন:

১. স্তনে চাকা বা পিণ্ড অনুভব করা (Lump)

এটি ব্রেস্ট টিউমারের সবচেয়ে প্রধান এবং সাধারণ লক্ষণ।

  • বিবরণ: গোসলের সময় বা কাপড় পরার সময় যদি স্তনের ভেতরে বা বগলের নিচে শক্ত কোনো চাকা বা মার্বেলের মতো কিছু অনুভব করেন, তবে সতর্ক হোন।
  • সাধারণ টিউমার: সাধারণত পিচ্ছিল হয়, ধরলে নড়াচড়া করে (একে ‘ব্রেস্ট মাউস’ বলা হয়) এবং ব্যথা থাকতে পারে।
  • ক্যান্সার টিউমার: সাধারণত খুব শক্ত হয় (পাথরের মতো), নড়াচড়া করে না (ফিক্সড থাকে) এবং প্রাথমিক পর্যায়ে ব্যথা থাকে না।

২. স্তনের আকার বা আকৃতি পরিবর্তন

  • বিবরণ: হঠাৎ করে যদি দেখেন একপাশের স্তন অন্যপাশের চেয়ে অস্বাভাবিক বড় হয়ে গেছে বা ঝুলে গেছে, অথবা কোনো এক জায়গা দেবে গেছে (Dimpling)—তবে এটি টিউমারের লক্ষণ হতে পারে।

৩. ত্বকের পরিবর্তন (Skin Changes)

  • বিবরণ: স্তনের চামড়ার দিকে ভালো করে লক্ষ্য করুন। যদি চামড়া লালচে হয়ে যায়, কুঁচকে যায় বা কমলার খোসার মতো ছোট ছোট ছিদ্রযুক্ত (Orange Peel appearance) হয়ে যায়, তবে এটি অ্যাডভান্সড টিউমার বা ক্যান্সারের লক্ষণ।

৪. নিপলের পরিবর্তন (Nipple Changes)

  • বিবরণ: স্বাভাবিক অবস্থায় নিপল বা স্তনবৃন্ত বাইরের দিকে থাকে। কিন্তু যদি দেখেন নিপল হঠাৎ করে ভেতরের দিকে ঢুকে গেছে (Nipple Retraction) বা নিপলের দিক পরিবর্তন হয়ে গেছে, তবে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

৫. নিপল দিয়ে অস্বাভাবিক নিঃসরণ (Discharge)

  • বিবরণ: আপনি যদি বাচ্চাকে বুকের দুধ না খাওয়ান, তবুও যদি নিপল দিয়ে কোনো তরল বের হয়, তবে তা চিন্তার বিষয়।
  • সতর্কতা: বিশেষ করে যদি রক্ত মিশ্রিত বা পুঁজের মতো তরল বের হয়, তবে এটি টিউমারের শক্তিশালী লক্ষণ।

৬. বগলে চাকা বা ফোলা (Lumps in Armpit)

অনেকে শুধু স্তনে হাত দিয়ে দেখেন, কিন্তু বগল চেক করেন না।

  • বিবরণ: ব্রেস্টের টিস্যু বগল পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে (Tail of Spence)। এছাড়া ব্রেস্ট ক্যান্সার সবার আগে বগলের লিম্ফ নোড বা গ্ল্যান্ডে ছড়িয়ে পড়ে। তাই বগলে কোনো চাকা অনুভব করলে তা ব্রেস্ট টিউমারের লক্ষণ হতে পারে।

৭. স্তনে ব্যথা (Breast Pain)

  • বিবরণ: যদিও ক্যান্সার টিউমারে শুরুতে ব্যথা থাকে না, তবে সাধারণ টিউমার বা ইনফেকশনে ব্যথা হতে পারে। স্তনে ক্রমাগত ব্যথা থাকা বা অস্বস্তি লাগা অবহেলা করা উচিত নয়।

ঘরে বসে ব্রেস্ট টিউমার পরীক্ষা করার নিয়ম (Self-Breast Examination)

প্রতিটি নারীর উচিত ২০ বছর বয়সের পর থেকে প্রতি মাসে একবার নিজে নিজে নিজের স্তন পরীক্ষা করা। একে বলা হয় ‘সেলফ ব্রেস্ট এক্সামিনেশন’ (SBE)

সঠিক সময়: মাসিকের ৫-৭ দিন পর (যখন স্তন নরম থাকে)। যাদের মাসিক বন্ধ হয়ে গেছে, তারা মাসের যেকোনো একটি নির্দিষ্ট দিন বেছে নিতে পারেন।

ধাপ ১: আয়নার সামনে (In front of Mirror)

কোমরের ওপরের কাপড় খুলে আয়নার সামনে দাঁড়ান।

  • সোজা হয়ে: দুই হাত পাশে রেখে স্তনের আকার, আকৃতি এবং চামড়ার রঙ দেখুন।
  • হাত উপরে তুলে: দুই হাত মাথার ওপরে তুলুন এবং দেখুন কোনো পরিবর্তন, গর্ত বা নিপল ভেতরের দিকে ঢুকে যাচ্ছে কি না।
  • কোমরে হাত দিয়ে: দুই হাত কোমরে রেখে বুকে চাপ দিন এবং আয়নায় দেখুন কোনো পরিবর্তন আছে কি না।

ধাপ ২: গোসলের সময় (In Shower)

গোসলের সময় শরীর ভেজা ও পিচ্ছিল থাকে, তাই চাকা বুঝতে সুবিধা হয়।

  • ডান হাত মাথার পেছনে রাখুন। বাম হাতের তিন আঙুল (তর্জনী, মধ্যমা ও অনামিকা) দিয়ে ডান স্তন আলতো করে চেপে চেপে পরীক্ষা করুন।
  • চক্রাকারে বা ওপর-নিচ করে পুরো স্তন এবং বগল পরীক্ষা করুন। একইভাবে অন্য পাশেও করুন।

ধাপ ৩: শুয়ে থাকা অবস্থায় (Lying Down)

  • বিছানায় চিত হয়ে শুয়ে পড়ুন। ডান কাঁধের নিচে একটি বালিশ বা তোয়ালে দিন। ডান হাত মাথার নিচে রাখুন।
  • বাম হাত দিয়ে ডান স্তন পরীক্ষা করুন। শক্ত কোনো চাকা বা পিণ্ড আছে কি না দেখুন। নিপল আলতো করে চিপে দেখুন কোনো তরল বের হয় কি না।

যদি কোনো শক্ত গাঁট, নড়াচড়া না করা চাকা বা ব্যথাহীন গাঁট পান, তবে ডাক্তার দেখানো উচিত।

সাধারণ টিউমার বনাম ক্যান্সার : পার্থক্য বুঝবেন কিভাবে?

অনেকে চাকা পেলেই মনে করেন ক্যান্সার হয়েছে। ভয়ের কিছু নেই, নিচের পার্থক্যগুলো জানলে আপনি কিছুটা আশ্বস্ত হতে পারবেন:

বৈশিষ্ট্য

সাধারণ টিউমার (Fibroadenoma/Cyst)

ক্যান্সার টিউমার (Malignant)

অনুভূতি

সাধারণত নরম বা রাবারের মতো হয়।

খুব শক্ত বা পাথরের মতো হয়।

নড়াচড়া

ধরলে সহজেই এদিক-সেদিক নড়াচড়া করে (Mobile)।

নড়াচড়া করে না, এক জায়গায় ফিক্সড থাকে।

ব্যথা

ব্যথা থাকতে পারে, বিশেষ করে মাসিকের আগে।

প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণত ব্যথা থাকে না।

আকার

খুব ধীরে বড় হয় বা একই থাকে।

খুব দ্রুত বড় হতে থাকে।

ত্বক

ত্বকের কোনো পরিবর্তন হয় না।

ত্বক কুঁচকে যায় বা কমলার খোসার মতো হয়।

(বিঃদ্রঃ এটি সাধারণ ধারণা মাত্র। নিশ্চিত হওয়ার জন্য অবশ্যই ডাক্তারের পরীক্ষা প্রয়োজন।)

কেন হয় ব্রেস্ট টিউমার? (Risk Factors)

ব্রেস্ট টিউমার বা ক্যান্সারের নির্দিষ্ট কোনো একটি কারণ নেই। তবে কিছু বিষয় ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়:

১. বংশগত বা জেনেটিক: মা, খালা বা বোনের ব্রেস্ট ক্যান্সার থাকলে ঝুঁকি বেশি থাকে (BRCA1, BRCA2 জিনের কারণে)।

২. বয়স: বয়স বাড়ার সাথে সাথে (৪০-এর পর) ঝুঁকি বাড়ে। তবে অল্প বয়সেও ফাইব্রএডিনোমা হতে পারে।

৩. হরমোন: দীর্ঘমেয়াদী ইস্ট্রোজেন হরমোনের আধিক্য বা হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি।

৪. বিয়ে ও সন্তান: বেশি বয়সে বিয়ে করা, ৩০ বছরের পর প্রথম সন্তান নেওয়া বা সন্তানকে বুকের দুধ না খাওয়ানো।

৫. মাসিক: খুব অল্প বয়সে (১২ বছরের আগে) মাসিক শুরু হওয়া এবং দেরিতে (৫৫ বছরের পর) মাসিক বন্ধ হওয়া।

৬. জীবনযাত্রা: ধূমপান, মদ্যপান, অতিরিক্ত ওজন এবং চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়া।

টিউমার ধরা পড়লে কি করবেন? (Diagnosis & Treatment)

যদি আপনি স্তনে কোনো চাকা বা গাঁট খুঁজে পান, তবে প্যানিক করবেন না। মনে রাখবেন, ৮০% চাকাই ক্যানসার নয়। তবে অবহেলা না করে দ্রুত একজন সার্জন বা ব্রেস্ট স্পেশালিস্টের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

সঠিক রোগ নির্ণয়ের জন্য ডাক্তাররা সাধারণত নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করেন এবং পরীক্ষাগুলো করতে দেন:

১. ক্লিনিক্যাল ব্রেস্ট এক্সাম (Clinical Breast Exam) 👩‍⚕️ সবার আগে ডাক্তার হাত দিয়ে পরীক্ষা করে চাকা বা গাঁটের প্রকৃতি বোঝার চেষ্টা করেন। এটি প্রাথমিক ধাপ।

২. ব্রেস্ট আল্ট্রাসোনোগ্রাম (USG of Breast) 🖥️

  • কাদের জন্য: এটি সাধারণত ৩৫ বছরের কম বয়সী নারীদের জন্য বেশি উপযোগী।

  • কাজ: এর মাধ্যমে বোঝা যায় চাকাটি সলিড (টিউমার) নাকি পানিভর্তি (সিস্ট)। এটি নিরীহ গাঁট নাকি ক্যানসার—সেই ভিন্নতা বুঝতেও সাহায্য করে।

৩. ম্যামোগ্রাম (Mammogram) 🎞️

  • কাদের জন্য: ৪০ বছরের বেশি বয়সী নারীদের জন্য এটি ‘গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড’ টেস্ট। বিশেষ করে ৫০ বছরের পর এটি নিয়মিত করানো উচিত।

  • কাজ: এটি স্তনের এক ধরণের বিশেষ এক্স-রে। টিউমার খুব ছোট বা প্রাথমিক অবস্থায় থাকলেও এতে ধরা পড়ে।

৪. এফএনএসি (FNAC – Fine Needle Aspiration Cytology) 💉 এটি একটি খুব সাধারণ পরীক্ষা। টিউমার বা চাকা থেকে সরু সুঁই দিয়ে সামান্য কোষ সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়।

৫. বায়োপসি (Biopsy) 🔬 এটি সবচেয়ে নির্ভুল এবং নিশ্চিত পরীক্ষা। এতে টিউমারের টিস্যু বা কোষ সামান্য কেটে ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়। এটি ক্যানসার কি না—তা শতভাগ নিশ্চিত হওয়ার জন্য এই টেস্ট করা হয়।

পরামর্শ: ভয়ের কিছু নেই। সঠিক সময়ে সঠিক পরীক্ষা এবং চিকিৎসা নিলে যেকোনো জটিলতা এড়ানো সম্ভব।

ব্রেস্ট টিউমারের চিকিৎসা:

চিকিৎসা নির্ভর করে টিউমারের ধরন, আকার, ছড়িয়েছে কি না, এবং রোগীর স্বাস্থ্য অবস্থা অনুযায়ী।

Benign Tumor (অ-ক্যান্সারজনিত গাঁট)

  • অনেক ক্ষেত্রে কোনো চিকিৎসা লাগে না

  • বড় হলে অস্ত্রোপচার করে ফেলা যায়

  • নিয়মিত ফলো-আপ করতে হয়

Malignant Tumor (Breast Cancer)

  • অস্ত্রোপচার (Lumpectomy / Mastectomy)

  • কেমোথেরাপি

  • রেডিওথেরাপি

  • হরমোন থেরাপি

  • Targeted Therapy

প্রাথমিক অবস্থায় পাওয়া গেলে ৮০–৯০% রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠেন।

ব্রেস্ট টিউমার প্রতিরোধের উপায়:

ব্রেস্ট টিউমার বা ক্যানসার শতভাগ প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়, কিন্তু সচেতন থাকলে ঝুঁকি কমানো যায়:

১. সেলফ এক্সাম: প্রতি মাসে একবার নিজের স্তন পরীক্ষা করুন।

২. স্ক্রিনিং: ৪০ বছর বয়সের পর প্রতি ১-২ বছর অন্তর ম্যামোগ্রাম করান।

৩. ওজন নিয়ন্ত্রণ: অতিরিক্ত ওজন ইস্ট্রোজেন বাড়িয়ে ঝুঁকি তৈরি করে। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন।

৪. বুকের দুধ খাওয়ানো: সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়ালে মায়ের ব্রেস্ট ক্যানসারের ঝুঁকি অনেক কমে যায়।

৫. স্বাস্থ্যকর খাবার: প্রচুর শাকসবজি, ফলমূল এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যুক্ত খাবার খান। ফাস্ট ফুড ও ধূমপান বর্জন করুন।

ব্রেস্ট টিউমার নিয়ে সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

ব্রেস্ট টিউমার কি ব্যথা করে?

উত্তর: সাধারণ টিউমার বা ইনফেকশনে ব্যথা হতে পারে। কিন্তু ক্যানসার টিউমারে প্রথম দিকে ব্যথা থাকে না। তাই "ব্যথা নেই মানে রোগ নেই"—এই ধারণা ভুল। ব্যথা না থাকলেও চাকা থাকলে ডাক্তার দেখান।

পুরুষদের কি ব্রেস্ট টিউমার হতে পারে?

উত্তর: হ্যাঁ, খুব বিরল হলেও পুরুষদেরও ব্রেস্ট টিউমার বা ক্যানসার হতে পারে। পুরুষদের বুকে কোনো শক্ত চাকা দেখা দিলে অবহেলা করা উচিত নয়।

ব্রা বা অন্তর্বাস ব্যবহারের সাথে কি টিউমারের সম্পর্ক আছে?

উত্তর: না। আঁটসাঁট ব্রা বা কালো রঙের ব্রা পরলে ক্যানসার হয়—এটি একটি ভুল ধারণা। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এর কোনো প্রমাণ নেই।

বায়োপসি করলে কি ক্যানসার ছড়িয়ে পড়ে?

উত্তর: এটি আমাদের দেশের একটি বড় কুসংস্কার। বায়োপসি বা সুই দিয়ে পরীক্ষা করলে ক্যানসার ছড়ায় না। বরং এটি রোগ নির্ণয়ের একমাত্র নিশ্চিত উপায়। বায়োপসি না করে চিকিৎসা শুরু করা অন্ধকারে ঢিল ছোঁড়ার মতো।

কখনই দেরি করবেন না – এই লক্ষণগুলো দেখলে সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তার দেখান

  • স্তনে কঠিন গাঁট

  • গাঁট দ্রুত বড় হচ্ছে

  • রক্ত বা পুঁজ বের হচ্ছে

  • স্তনবোঁটা ভেতরে ঢুকে গেছে

  • স্তনে ব্যথাহীন শক্ত অংশ

  • আন্ডারআর্মে গাঁট

  • চামড়া কমলা লেবুর মতো দেখাচ্ছে

আগে ধরলে ভালো থাকার সম্ভাবনা অনেক বেশি।

উপসংহার:

প্রিয় মা ও বোনেরা, ব্রেস্ট টিউমার মানেই মৃত্যুদণ্ড নয়। ভয়ের সবচেয়ে বড় কারণ হলো “দেরি করা”। আমাদের দেশের নারীরা লজ্জায় কাউকে বলেন না, যখন বলেন তখন অনেক দেরি হয়ে যায়।

আপনার শরীর আপনার সম্পদ। মাসে মাত্র ৫ মিনিট সময় দিন নিজের শরীরকে পরীক্ষা করতে। কোনো চাকা বা পরিবর্তন নজরে এলে লজ্জা না পেয়ে স্বামী বা পরিবারের সাথে কথা বলুন এবং দ্রুত ডাক্তারের কাছে যান। প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে ব্রেস্ট ক্যানসার শতভাগ নিরাময়যোগ্য।

সচেতন হোন, সুস্থ থাকুন। আপনার সুস্থতাই আপনার পরিবারের হাসি ধরে রাখবে।

(বিঃদ্রঃ এই ব্লগটি সাধারণ স্বাস্থ্য সচেতনতা ও তথ্যের জন্য লেখা হয়েছে। এটি কখনোই সরাসরি ডাক্তারের পরামর্শের বিকল্প নয়। কোনো সমস্যা মনে হলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন।)

Scroll to Top